• দেশে জিডিপি বৃদ্ধির হার বাড়ছে পূর্বাভাস আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: আগামী রবিবার সাধারণ বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ হল আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। যদিও ঘরোয়া চাহিদায় ভর করে আগামী অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি (দেশে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির গতি ৬.৮  থেকে ৭.২ শতাংশর মধ্যে থাকবে বলে সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত বছরের সমীক্ষায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা কিছুটা কমবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সমীক্ষায়। এদিন প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল। বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাবলী বাণিজ্যে প্রভাব ফেললেও ভারতে বৃদ্ধির হার মাথা তুলছে। এ ক্ষেত্রে ‘পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি’ এড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গঠনমূলক সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সমীক্ষায়।দেশের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের তত্ত্বাবধানে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। চড়া হারে মার্কিন শুল্ক, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনিশ্চয়তা এবং এআই-নির্ভর বৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যেও ভারত কী ভাবে অর্থনীতি সামলাবে, তার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি এখন নিয়ন্ত্রণেই। আরবিআই চলতি বছরে এই হার ২ শতাংশের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশে মূলধনী ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ অর্থবর্ষে যেখানে ব্যয় ছিল ৫.৯৩ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ১১.২১ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে। আবার আইএমএফ-এর উদ্ধৃতি ব্যবহার করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য ‘এআই বাবল’ তৈরি হলে বাজারে সংশোধন হতে পারে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে আত্মনির্ভরতার দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার।প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতোই ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সাধারণত এই বাজেটগুলি হয় সংস্কারমুখী। কারণ ভোটের চাপ থাকে না। তবে ২০২৬-এর বিষয়টি আলাদা। কারণ এবার বাজেটের মাস খানেকের মধ্যে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট রয়েছে। ফলে এবার সংস্কারের পাশাপাশি নির্মলার বাজেট ‘জনমোহিনী’ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিহাল মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)