সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: বাগান মালিকের সঙ্গে করা চুক্তিপত্র আগুনে পুড়িয়ে নতুন চুক্তি করার দাবি তুললেন ডুয়ার্সের বানারহাটের আমবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার আমবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের এই প্রতিবাদ ধর্নাকে সমর্থন জানিয়ে তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনয়নের নেতৃত্ব এগিয়ে আসে। গত ২ ডিসেম্বর থেকে আমবাড়ি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। বাগানে শ্রমিক সংখ্যা ১২০০। মাঝেমধ্যেই শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠিয়ে মজুরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে গত ৮ অগাস্ট বাগান বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শিলিগুড়ির দাগাপুরে শ্রমদপ্তরে মালিকের সঙ্গে শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। চুক্তির পরদিন থেকেই পুনরায় বাগান খোলে।কিন্তু চুক্তি অনুসারে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কাজ করাচ্ছেন না বলে শ্রমিক অসন্তোষ কয়েকদিন ধরেই চলছিল। বাগানের এক সহকারী ম্যানেজারের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে ২ ডিসেম্বর থেকে ফের বাগান বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শ্রমদপ্তর বৈঠক ডেকেও বাগান খুলতে পারেনি।আমবাড়ি চা বাগানের তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি বিধান তাঁতি বলেন, যে ১৫টি পয়েন্টের উপর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল তা মেনে বাগান কর্তৃপক্ষ কাজ করছিল না। কোনও অজুহাত ছাড়াই ১৪ জনকে ছাঁটাই করে দিয়েছে। আমরা পুরনো চুক্তি মানি না। তাই শ্রমিকরা এদিন চুক্তিপত্র আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছেন।বাগানের তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শংকর আজম জানিয়েছেন, শ্রমিকদের জোর করে ডবল ডবল কাজ করান হচ্ছিল। চুক্তি মেনে কাজ হচ্ছিল না। তাই এই চুক্তি আমরা মানি না। যেই বাগান খুলতে আসুক, সেই মালিককে নতুন চুক্তি করে আসতে হবে। জলপাইগুড়ি জেলার উপ শ্রম আধিকারিক শুভাগত গুপ্ত জানিয়েছেন, আমবাড়ি চা বাগান খোলার জন্য শ্রমদপ্তর সবরকম পরিকল্পনা নিচ্ছে।এদিকে আমবাড়ি ছাড়া রায়পুর, ধরণীপুর, রেড ব্যাংক, বামনডাঙা, সামসিং, কিলকটের মতো চা বাগানগুলি এখনও বন্ধ রয়েছে। কবে খুলবে কেউ জানে না। • নিজস্ব চিত্র।