উপ নির্বাচনে ২৯ হাজার ভোটে জিতেছিল তৃণমূল এসআইআরে নোটিস ৫৭ হাজারকে
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
রবীন রায় ,আলিপুরদুয়ার: একুশের ভোটে মাদারিহাট বিধানসভা আসনে বিজেপির মনোজ টিগ্গা ২৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে হারিয়েছিলেন তৃণমূলকে। পরে দলের নির্দেশে বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে চব্বিশের লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হন। তারপর বিধানসভার উপ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়প্রকাশ টোপ্পো ২৯ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপির রাহুল লোহারকে হারিয়ে জয়ী হন।সেই সংখ্যালঘু ও আদিবাসী অধ্যুষিত চা বলয় মাদারিহাট বিধানসভায় আনম্যাপড ও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে ৫৭ হাজার ৪৫৫ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের অভিযোগ, গেরুয়া পার্টিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, এসআইআর নির্বাচন কমিশনের একটি প্রক্রিয়া। সেখানে বিজেপি ভোটারদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে।মাদারিহাটের তৃণমূল বিধায়ক জয়প্রকাশ টোপ্পো বলেন, যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে তাঁদের সবার কাগজপত্র আছে। ভোটারদের নামে ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। বাস্তবে এসআইআরকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এভাবে নোটিস দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ বিজেপির মনোজ টিগ্গা পাল্টা বলেন, এসআইআর নির্বাচন কমিশনের একটি প্রক্রিয়া। নাম বা পদবীতে একটু ভূল থাকলেই সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে না। আমাদেরও অনেকে নোটিস পেয়েছেন। এমনকী আমার ভাইও নোটিস পেয়েছে। আমাদের দাবি নির্ভূল ভোটার তালিকা। আসলে দুর্নীতিবাজ তৃণমূল এবার এমনিতেই হারবে। তাই আগাম আতঙ্কে ভুগছে।মাদারিহাট বিধানসভায় ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এরমধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের সাঁকোয়াঝোরা-১ ও বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েত দু’টিও রয়েছে। বিধানসভার শিশুঝুমড়া, খয়েরবাড়ি ও রাঙালিবাজনা এই তিনটি পঞ্চায়েত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। বাকি ১০টি পঞ্চায়েত নেপালি ও আদিবাসী অধ্যুষিত।আনম্যানড ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মাদারিহাট এক সময় আরএসপি’র দুর্গ ছিল। চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে এবং আনম্যাপড ও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে নোটিস পাঠিয়ে মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে আরএসপিও বিধানসভা জুড়ে পদযাত্রায় নেমেছে।আরএসপি প্রভাবিত ডুয়ার্স চা বাগান ওয়াকারর্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোপাল প্রধান বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে ও এসআইআরে নোটিস পাঠিয়ে মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে আমাদের দল পদযাত্রায় নেমেছে। এসআইআরের নোটিস পাঠিয়ে মানুষকে এভাবে হয়রানির প্রতিবাদে সিপিএমও আন্দোলনে নেমেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শংকর দাস বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও বহু ভোটারের নামে ভুলত্রুটি ছিল। তখন তো এভাবে মানুষকে হয়রানি করা হয়নি। তাহলে এখন কেন করা হচ্ছে? এর প্রতিবাদে আমাদের দল ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছে।