সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রেই বেশি ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে শাসকদলের দাবি, তৃণমূলের দখলে থাকা আসনগুলিতেই নোটিসের সংখ্যা বাড়ছে।মালদহ অন্যতম সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা। ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ইংলিশবাজার, মালদহ, হবিবপুর ও গাজোল বিজেপি দখলে। বাকি বৈষ্ণবনগর, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, মানিকচক, রতুয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর ও চাঁচলে তৃণমূলের বিধায়ক।কমিশন সূত্রে খবর, বিজেপির দখলে থাকা ইংলিশবাজারে ৪২ হাজার, মালদহ কেন্দ্রে ৫০ হাজার, হবিবপুরে ২৭ হাজার ও গাজোল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৫০ হাজার মানুষের নাম লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় রয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা সুজাপুর কেন্দ্রে ১ লক্ষ ৩০ হাজার, রতুয়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজার, মালতীপুর বিধানসভায় ৯৯ হাজার, মোথাবাড়িতে ৮২ হাজার এবং মানিকচক ও বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ৭৫ হাজার করে মানুষের নাম রয়েছে।তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, আসলে এসআইআরের নামে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূলের দখলে থাকা বিধানসভাতেও একই অবস্থা।পালটা বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, আমাদের নেতাকর্মীদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সঠিক নথি থাকলে শুনানিতে যেতে ভয় কিসের?মালদহ জেলার অন্যতম নতুন বিধানসভা কেন্দ্র হল চাঁচল। ২০১১ সালে গঠিত চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। এই কেন্দ্রের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। এখানে প্রায় আশি হাজার মানুষের নাম রয়েছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। মৃত, একই ব্যক্তির দুই জায়গায় নাম এবং অন্যত্র চলে যাওয়ার দরুণ এখানকার প্রায় ১৬ হাজার ভোটারের নাম এসআইআরের খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়াতে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। তার ওপর বিজেপির ’বি’ টিম হিসেবে মিম ও মুর্শিদাবাদের সদ্য গঠিত একটি রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু ভোট কাটার কাজ করছে। এসব করে কোনও লাভ হবে না।বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। তৃণমূল কেন এত ভয় পাচ্ছে!মালদহের আরেকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্র হল হরিশ্চন্দ্রপুর। এই কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন খোদ বৃহস্পতিবার শুনানিতে হাজির হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। গত বছরের ভোটার তালিকায় অনুযায়ী এখানে প্রায় ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটার রয়েছেন। মন্ত্রী জানান, আমার কেন্দ্রের প্রায় এক লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তার মধ্যে আশি হাজার ভোটারই সংখ্যালঘু।