• দীর্ঘদিন বেহাল বরাবাজার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোর ভবন, খসে পড়ছে ছাদের চাঙড়
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মানবাজার: দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোর ভবন। খসে পড়ছে পলেস্তারা, দেওয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসতে হচ্ছে রোগীদের। বর্ষা নামলেই ছাদ দিয়ে জল চুঁইয়ে পড়ে। অথচ এই বেহাল অবস্থার মধ্যে দিয়েই দিনের পর দিন পরিষেবা দিয়ে চলেছে বরাবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সংস্কারের অভাবে এলাকার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের বহির্বিভাগের কার্যত ঝুঁকির মুখে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।বরাবাজারের বিএমওএইচ শুভাশিস মুদি বলেন, আউটডোরের ভবনটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। গর্ভবতী মহিলা থেকে শিশুদের নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা করাতে আসেন। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। রান্না ঘরটির অবস্থাও খারাপ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু, এখনও কোনও সুরাহা হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। অথচ বহির্বিভাগের বিভিন্ন রুমে, বারান্দায় পলেস্তারা ও চাঙড় খসে পড়ছে। ডাক্তার দেখাতে অনেক রোগী ভয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে থাকতে সাহস পায় না। বর্ষাকালের সমস্যা আরও বাড়ে বলে অভিযোগ। শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালে রোগীদের জন্য রান্নার যে ঘর রয়েছে, সেটিরও অবস্থা জরাজীর্ণ বলে দাবি স্থানীয়দের।রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সহ ইন্ডোরের অবস্থা ঠিক থাকলেও বহির্বিভাগের ভবন একেবারে জীর্ণ। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা করাতে এসে ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা লাল্টু গোপ বলেন, হাসপাতালের অবস্থা খুব খারাপ। যা অবস্থা, আমাদের দেখে ভয় লাগছে। ছাদের চাঙড় খসে পড়েছে, দেওয়ালও ফেটে আছে। চিকিৎসা করাতে আসা ভাস্কর ওরাং সহ কয়েকজনের একেই দাবি, বরাবাজার হাসপাতালের উপর তাঁরা নির্ভরশীল। এখানে ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। আমাদেরও ভয় লাগে।এই অবস্থার মধ্যে হাসপাতালের বহির্বিভাগের কর্মী ও চিকিৎসকদেরও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট রুম, ওষুধ দেওয়ার রুম, ডাক্তারদের বসার রুম, সহ বিভিন্ন জায়গায় চাঙড় খসে পড়েছে। চক্ষু বিভাগের রুমেরও অবস্থা বেহাল। ওই রুমে হঠাৎ একদিন বড় মাপের একটি চাঙড় খসে পড়ে যায় বলে জানান কর্মীরা। সেই সময় কেউ না থাকায় বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি।হাসপাতালে রোগীদের খাবার তৈরির জন্য রান্নাঘরটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। সেখানে রান্নার কর্মীদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় বলে দাবি। রান্নার কর্মী নমিতা প্রামাণিক বলেন, হাসপাতালে রান্নার রুমটি খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কোনওরকমে রান্না করতে হচ্ছে। রান্না করার সময় অনেকবার ছাদের চাঙড় খসে পড়তে দেখেছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত জীর্ণ ভবনগুলি সংস্কার করা দরকার। না হলে যে কোনওদিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)