• ইসির মিটিং ঘিরে তোলপাড় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়,পেনশন চালুর দাবিতে প্রাক্তন আধিকারিকদের তুমুল বিক্ষোভ
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ইসির বৈঠকের দিনে উত্তেজনা ছড়াল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাক্তন আধিকারিকরা ভিসির অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেয়। তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে দেন। তবে, ইসির বৈঠক বিঘ্নিত হয়নি। সুষ্ঠুভাবেই বৈঠক শেষ হয়। এদিন আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন প্রাক্তন এফও পার্থনারায়ণ ঘোষ, কন্ট্রোলার সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার দেবমাল্য ঘোষ প্রমুখ। তাঁদের দাবি, অক্টোবর মাসের পর যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের পেনশন চালু হয়নি। তাঁরা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি জানানোর পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভিসি শঙ্করকুমার নাথ বলেন, এখানে বিক্ষোভ দেখিয়ে লাভ নেই। ওঁরা বিকাশ ভবনে গিয়ে সমস্যার কথা বলছেন না কেন?বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস পর এদিন ইসির বৈঠক হয়। অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শুরুর আগেই প্রাক্তন আধিকারিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাজির হয়ে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, ইসির বৈঠকে প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়াতে হবে। হাতেগোনা কয়েকজনকে নিয়ে তাঁরা বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে নিয়েও সমস্যা রয়েছে। রাজ্য সরকার একজনকে রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ করছেন। অথচ অপর একজন রেজিস্ট্রারের চেয়ারে বসে রয়েছেন। তাঁকে নিয়েই ইসির বৈঠক করা হচ্ছে। কে আসল রেজিস্ট্রার, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণা করা উচিত। বিক্ষোভকারী দেবমাল্য ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। সরকারি চাকরির অন্যতম শর্তই হল অবসরের পর নিশ্চিন্তে থাকা। এখানকার আধিকারিকরা সেটাই থাকতে পারছেন না। তাঁরা পেনশন চালুর জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন। অবসর নেওয়ার পর তিন মাস কেটে গেলেও অনেকেই পেনশন পাচ্ছেন না। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। সেটা তারা করেনি বলেই আন্দোলন করতে হয়েছে। এদিন আমরা ভিসির সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানাতে চেয়েছিলাম। আমাদের সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একসময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, অধ্যাপকরা আন্দোলনে ছিলেন। তাঁরা নিশ্চয় কেউ অশান্তি করতেন না।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসির বৈঠক আগেই ঠিক হয়েছিল। সেটা আন্দোলনকারীরা জানতেন। তাঁরা এদিনের পরিবর্তে ভিসির সঙ্গে অন্যদিন দেখা করতে পারতেন। সেটা না করে পরিকল্পনা করেই এদিনটাকে বেছে নেওয়া হয়। ইসির বৈঠক দীর্ঘ সময় ধরে চলে। বিভিন্ন অ্যাজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। এদিন তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ ভিসির ছিল না। সমস্যার সমাধান করতে চাইলে অন্য কোনও দিন তাঁরা বৈঠক করতে পারতেন।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)