• বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় রক্তের সংকট জেলাস্তরের কমিটি গঠন স্বাস্থ্যদপ্তরের,সমস্ত সরকারি দপ্তরকে রক্তদান শিবির আয়োজনে চিঠি
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, সিউড়ি: এবার জেলার সমস্ত সরকারি দপ্তরকে রক্তদান শিবির আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠাবে স্বাস্থ্যদপ্তর। সেইসঙ্গে রক্তের সংকট রুখতে জেলাস্তরের ব্লাড ট্রান্সফিউশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় যাতে রক্তের সংকট না দেখা দেয়, সেদিকে নজর রাখাই এই কমিটির লক্ষ্য।সিএমওএইচ শুভব্রত ঘোষ বলেন, রক্তের সংকট রুখতেই আমরা এই কমিটি গঠন করেছি। রক্তের আকাল যাতে কোনওভাবেই না দেখা দেয়, সেজন্য  সমস্ত সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে শিবির আয়োজনের অনুরোধ জানানো হবে।নভেম্বর মাস থেকে রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এসআইআর-সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এর জেরে জেলায় রক্তদান শিবির আয়োজন অনেকটাই কমেছে। ফলে গত ডিসেম্বর মাসেই সিউড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্তের সংকট দেখা দেয়। তাই এবার রক্তসংকট দূর করতে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর এই কমিটি গড়েছে।কমিটিতে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ), পুলিশ সুপার, বীরভূম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ, সিউড়ি সুপারস্পেশালিটির সুপার সহ অন্যরা রয়েছেন। কিছুদিন আগেই এই কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে। আগামী দিনে রক্তের সংকট দূর করতে কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, সেবিষয়ে বৈঠকে একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে জেলার সমস্ত সরকারি দপ্তরকে রক্তদান শিবির আয়োজনের আবেদন করা হবে-বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সাধারণত ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও রাজনৈতিক দল রক্তদান শিবির আয়োজন করে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়োজকরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসআইআরের কাজে তাঁদের অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। সিউড়ি ব্লাড ব্যাংকে তার প্রভাব পড়ে। সামনেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। ভোটের মরশুমেও রক্তদান শিবির আয়োজন কমে যায়। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। শুধুমাত্র সিউড়ি সুপারস্পেশালিটির ব্ল্যাড ব্যাংক ঠিকমতো পরিচালনার জন্য প্রতিবছর ১৪-১৫হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২০০ইউনিট রক্তের চাহিদা থাকে। শীতের মরশুমে চাহিদা কিছুটা কমে। গরমকালে তা আবার বেড়ে যায়। অনেকসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাইরে থেকে রক্ত আনতে হয়। সম্প্রতি ওই ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কলকাতা থেকে রক্ত আনতে হয়েছে। সেসব নজরে রেখেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)