• অতিরিক্ত জল ছেড়ে চাষের ক্ষতি করেছিল ডিভিসি,পূর্ব বর্ধমানে ৩২ হাজার চাষির অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ষায় মাত্রাতিরিক্ত জল ছেড়ে চাষিদের সর্বনাশ করেছিল ডিভিসি। বহু ধানের জমি জলের তলায় চলে যায়। বীজতলাও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা ডিভিসি কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি। কিন্তু, চাষিদের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চাষিদের অ্যাকাউন্টে সরকার টাকা পাঠাচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩২ হাজার ৭২৫জন চাষি ১২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৬৪টাকা পাবেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, সেই সময় বিনামূল্যে চাষিদের ধানের চারা দেওয়া হয়েছিল। জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। ওই এলাকার চাষিদের বিমা করানোর জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। আধিকারিকরা মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি চিহ্নিত করেছিলেন।কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খরিফ মরশুমে  ৪ লক্ষ ২২ হাজার ৮৮০ জন চাষি বিমার জন্য আবেদন করেন। ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমি বিমার আওতায় আসে। আলুর বিমাতেও জোর দেওয়া হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, বাম জমানায় দুযোর্গে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষিদের কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু, এখন সেই অবস্থা নেই। চাষিরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য প্রতিটি মরশুমেই বিমা করানোর জন্য জোর দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতস্তরে গিয়ে ক্যাম্প করা হচ্ছে। চাষিদেরও আগ্রহ বেড়েছে। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিরাও বিমার টাকা পেয়েছিলেন। এবার ধানচাষিরাও ক্ষতিপূরণ পেলেন। চাষিরা বলেন, ডিভিসির ছাড়া জলে রায়না-২ ব্লক সহ বিস্তীর্ণ এলাকার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া, কেতুগ্রাম এলাকায় ধান জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। ফলে বহু জমির ধান নষ্ট হয়েছিল। ওই এলাকার চাষিরাও ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন।পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, আমাদের সরকার সবসময় মানুষের পাশে থাকে। চাষি বা শ্রমিকরা সমস্যায় পড়লে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ডিভিসি রবি বা বোরো চাষের মরশুমে পর্যাপ্ত জল ছাড়ে না। কিন্তু, বর্ষার সময় মাত্রাতিরিক্ত জল ছেড়ে চাষের জমি ডুবিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের কথা ভাবে না। সেটা হলে তারা কখনই এই কাজ করত না। জলাধারগুলির নাব্যতা বাড়ানোর দিকে তাদের নজর নেই। ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টি হলেই ডিভিসি জল ছেড়ে দেয়। ডিভিসি চাষিদের ক্ষতি করছে। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাষিদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। এছাড়া, চাষিরা কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকাও পেয়েছেন। সরকার চাষিদের ধান কেনার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা করেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)