সংবাদদাতা, মানকর: কোলে শিশু নিয়ে নথি হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক মহিলা। বৃহস্পতিবার কাঁকসা ব্লক অফিসে শুনানি কেন্দ্রে এমনই ছবি দেখা গেল। চড়া রোদ মাথায় নিয়ে শুনানির লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মায়েদের অভিযোগ, এমন হয়রানির মানে কী? আমাদের সঙ্গে শিশুদেরও তো সমস্যা হচ্ছে। অনেক মা শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে গিয়েও পরিকাঠামো না থাকায় পড়ছেন সমস্যায়।প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার কাঁকসা ব্লক অফিসে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। শুনানি ঘিরে অব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবেদনহীনতার অভিযোগ আগেই উঠেছে। এবার সেই রেশ টেনে এদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, পরিকল্পনামাফিক এই শুনানি করলে সাধারণ মানুষের এত দুর্ভোগ হত না। কলেজ কামাই করে নথি নিয়ে শুনানিতে হাজির ছিলেন কাঁকসার বাসিন্দা যুবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজ কলেজে ইংরেজি অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র তিনি। তাঁর বাবা ও মা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি। যুবরাজ বলেন, বর্ধমানে কলেজ ও টিউশন বন্ধ রেখে নথি ঠিক করতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শুনেছি সব ঠিক না থাকলে ফের ডাকা হবে। আমি এখনো একবারও ভোট দিইনি। তার আগে এত হয়রানি হতে হচ্ছে।যুবরাজের মা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার মানুষকে হেনস্থা করার চক্রান্ত করছে। সামান্য বানানের ভুলের জন্য সাধারণ মানুষ, বাড়ির মহিলা ও জনপ্রতিনিধি, কাউকেই রেয়াত করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কমিশনকে হাতিয়ার করে এই হয়রানি বন্ধ হওয়া দরকার।এদিন লাইনে কোলে শিশু নিয়ে কয়েকজন মহিলা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক মহিলা বলেন, শুনানিকেন্দ্রে কোলের শিশুকেও নিয়ে আসতে হয়েছে। এখনো পাঁচ মাস বয়স হয়নি। ভিড়ের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে জেনেও নিয়ে এসেছি। কারণ কতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, কখন প্রক্রিয়া শেষ হবে জানি না। শিশুকে এতক্ষণ বাড়িতে রেখে আসা যাবে না। পাশাপাশি শিশুদের মাতৃস্তন পান করাতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় কয়েকজন মাকে।এদিন শুনানি কেন্দ্রের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা বলেন, রোদের মধ্যে বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বসার জন্য আলাদা জায়গাও করা হয়নি। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। দূরত্বও অনেক। তারপরও ন্যূনতম পরিষেবা কেন পাব না।-নিজস্ব চিত্র