• তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আন্দোলনের জের,পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত ফেল পদ্ধতি তুলে দিল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আন্দোলনের জেরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে পাশ-ফেল পদ্ধতি শিথিল করল কর্তৃপক্ষ। ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সেক্রেটারি দেবকুমার বিশ্বাস এনিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত ‘অটোমেটিক প্রোগ্রেশন’ অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সেমেস্টারে পৌঁছানো যাবে। কোনও সেমেস্টারে আটকে থাকার নিয়ম থাকছে না। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সেক্রেটারি বলেন, সিবিসিএস(চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম) পদ্ধতি চালু থাকার সময় পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত ফেল অটোমেটিক পরবর্তী সেমেস্টারে উঠে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ২০২৩সালে জাতীয় জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর(এনইপি) পর সেই নিয়ম পরিবর্তন হয়েছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্নস্তরে আলোচনা, বৈঠক করার পর পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত আগের মতোই অটোমেটিকভাবে পরবর্তী সেমেস্টারে ওঠে যাওয়ার নিয়মই বলবৎ করল।উল্লেখ্য, তিন বছরের স্নাতক কোর্সে মোট ছ’টি সেমেস্টার আছে। প্রতিটি সেমেস্টারে ছ’টি করে পেপার। তারমধ্যে তিনটি কিংবা তার বেশি পেপারে অকৃতকার্য হলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীকে সেই সেমেস্টারে থেকে যেতে হতো। পরবর্তী সেমেস্টারে ওঠা যেত না। এর ফলে তিনটি কিংবা তার বেশি পেপারে পাশ মার্কস না পাওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে ড্রপআউট সমস্যা প্রকট হচ্ছিল। তাছাড়া, যাদবপুর থেকে কলকাতা, বারাসত ইউনিভার্সিটি থেকে পাঁশকুড়া স্বশাসিত কলেজে জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর পর স্নাতকে তিনটি কিংবা তার বেশি পেপারে পাশ মার্কস না পেয়ে একই সেমেস্টারে আটকে যাওয়ার নিয়ম নেই। অথচ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনই নিয়ম ছিল। আসলে ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষায় জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর পর প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় পাশ-ফেল নিয়ম অনেকটা নিজের মতো রূপরেখা বানিয়েছিল। যেকারণে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একরকম নিয়ম। আবার, অন্য ইউনিভার্সিটিতে আরেকরকম নিয়ম।তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে এনিয়ে উপাচার্য, পরীক্ষা নিয়ামক, রেজিস্ট্রার, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিল, অধ্যক্ষ সংগঠনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এনিয়ে বিভিন্ন কলেজে প্রতীকী বিক্ষোভও দেখানো হয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। অধ্যক্ষদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাবিদাওয়া গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করা হয়। যার জেরে আন্ডার গ্র্যাজুয়েটে পাশ-ফেল পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া দেশপ্রাণ মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা আবেদ আলি খান বলেন, অধিকাংশ কলেজে ছাত্র সংখ্যা ভীষণ কমছে। এবছর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৫৪টি কলেজে মোট ৭৪হাজার আসনের মধ্যে ৫০হাজার আসন ফাঁকা। এমন সংকটপূর্ণ অবস্থায় একই সেমেস্টারে অতিরিক্ত ছয় মাস আটকে যাওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে ড্রপ আউটের হার বাড়ছে। তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পাশ-ফেল পদ্ধতি শিথিলের দাবি তুলেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিকে মান্যতা দেওয়ায় আমরা খুশি।
  • Link to this news (বর্তমান)