সন্ন্যাসীরা এখনও ‘বৈধ ভোটার’ নন কমিশনের চোখে, সক্রিয় নয় অ্যাপ
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিভিন্ন আশ্রমের সন্ন্যাসী বা মহারাজরা এসআইআরের শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই শুনানি কেন্দ্রে নথি নিয়ে হাজিরা দেন। আবার অনেকের কাছেই নথি ছিল না। কারণ তাঁরা অনেক আগেই বাড়ি ছেড়ে আশ্রমে চলে আসেন। পরে নির্বাচন কমিশন এসব ক্ষেত্রে ইআরও বা এইআরওদের আশ্রমে গিয়ে যাচাই করতে বলে। সেই মতো তাঁদের নাম আপলোড করা হয়। কিন্তু তাঁদের এখনও ‘বৈধ ভোটার’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের বৈধতা দেওয়ার অ্যাপ এখনও সক্রিয় হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁরা বৈধতা পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।এদিকে আদিবাসীরাও দাবি করেছেন, নো ম্যাপিং হয়ে থাকা তাঁদেরও সকলকেই বৈধ ভোটারের স্বীকৃতি দিতে হবে। এই দাবিতে লাগাতার অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের আদিবাসী সংগঠনের নেতা দেবু টুডু। জেলাশাসকের অফিসের সামনে তিনি অনশনে বসেছেন। এদিন মঞ্চে এসেছিলেন জামালপুরের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, দলের নেতা শিবু ঘোষ সহ অন্যানরা। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, নির্বাচন কমিশন হয়তো আমাদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ মারা গেলে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। আদিবাসীরা কেন নথি দেখাতে যাবে। পদবি দেখেই তো নির্বাচন কমিশনের বোঝা উচিত ছিল কারা আদিবাসী। তারা সবাইকে রোহিঙ্গা ভাবতে শুরু করেছে।কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে ১ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের কাজ সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। আধিকারিকরা অতিরিক্ত সময় কাজ করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। তবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসিতে খুব কম সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, তালিকায় কোনও কারণে বৈধ ভোটারের নাম বাদ চলে গেলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হবে। সেই কারণে নথি যাচাইয়ের সময় বাড়ানো দরকার। প্রতিটি নথি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে যাচাই হওয়ার পর বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেড় লক্ষর কিছু বেশি নথি যাচাই করা হয়েছে। প্রায় ছ’ লক্ষ নথি যাচাই করতে হবে। তারমধ্যে আধার, জন্ম সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন ধরনের নথি রয়েছে।