সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: রাজধানী এক্সপ্রেসও এবার দাঁড়াবে পুরুলিয়া স্টেশনে। হুড়ার রেললাইনের অনুমোদনের পর আরও চমক বিজেপির। ভোটের আগে রেলকে সামনে রেখে মানুষের মন পেতে চাইছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বিজেপি এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাত ফের একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে রাজধানী এক্সপ্রেসের নতুন স্টপেজের কথা জানান। তবে করোনার সময় বাতিল করা ট্রেন চালু না করে ভোটের আগে এই ঘোষণা বিজেপির জুমলা বলেই মনে করছে তৃণমূল, সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের মুখে এই সব ঘোষণা হচ্ছে কেন?বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রীর একটি চিঠি প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার বিজেপি এমপি। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজধানী এক্সপ্রেস এবার থেকে পুরুলিয়া স্টেশনেও দাঁড়াবে। ভুবনেশ্বর নয়াদিল্লি তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস পুরুলিয়া স্টেশনে দাঁড়াবে। এছাড়াও টাটানগর বিলাসপুর এক্সপ্রেস আনাড়া স্টেশনে এবং রাঁচি-গোদা এক্সপ্রেস ঝালদা স্টেশনে দাঁড়াবে। এবিষয়ে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শংকর মাহাত বলেন, এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাত বারবার এবিষয়ে রেলমন্ত্রকে দাবি জানিয়েছিলেন। পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। এটা পুরুলিয়া জেলার জন্য বড় সুখবর। অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। এবার খুব দ্রুত ওই ট্রেনগুলি নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে দাঁড়াবে।তবে এনিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তৃণমূলের পুরুলিয়া শহরের সভাপতি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজধানী এক্সপ্রেসে কতজন চাপবেন? যে ট্রেনগুলিতে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে, সেই ট্রেনগুলির পরিষেবা আগে ঠিক করুক। করোনার সময় বন্ধ করে দেওয়া ট্রেনগুলি আজও কেন চালু হল না, তার জবাব বিজেপি আগে দিক। আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়ায় এসে ট্রেন পরিষেবা নিয়ে সরব হতেই বিজেপি নেতাদের ঘুম ভেঙেছে। এতদিন তো জেলার ট্রেনগুলির বিষয়ে কেউ উদ্যোগ নেননি। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস থেকে হাওড়া চক্রধরপুর ট্রেনগুলির পরিষেবা ঠিক করা ও লোকাল ট্রেনগুলি চালু করার দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে শুধু প্রচারই হবে। সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না। সিপিএমের পুরুলিয়া শহর এরিয়া কমিটির সহ সম্পাদক জিতেন ওঝা বলেন, রাজধানী এক্সপ্রেস পুরুলিয়ায় দাঁড়ালে অবশ্যই কিছু মানুষ খুশি হবে। তবে এটা ভোটের আগে বিজেপির জুমলা বলেই মনে হচ্ছে।সারা ভারত খেতমজুর গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়নের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শ্যামল মাহাত বলেন, এতে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না। বিজেপি ভোটের কথা মাথায় রেখেই এখন এসব ঘোষণা করছে। ভোট মিটলে আবার বন্ধ করে দেবে। সাধারণ মানুষের উপকার করতে চাইলে লোকাল ট্রেনের পরিষেবা ঠিক করুক। তারপর রাজধানীর কথা বলবে।