সৎসাহস থাকলে সমস্ত চ্যালেঞ্জেরই মোকাবিলা করা সম্ভব: রাজীব কুমার
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের কর্তব্য কী, সমাজ তাদের কাছে কী প্রত্যাশ্যা করে এবং কী কী স্মরণে রাখতে হবে, ফেয়ারওয়েল প্যারেড অনুষ্ঠানে তাই তুলে ধরলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার। একইসঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে সৎসাহসের সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব বলে জানান তিনি। বাংলা তিন দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য। এজন্য পুলিশকে কত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগামীকাল, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কর্মজীবন থেকে অবসর নেবেন রাজ্য তথা গোটা দেশে অত্যন্ত দক্ষ অফিসার হিসেবে পরিচিত পুলিশকর্তা রাজীব কুমার।ডিজি পদে নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার। বৃহস্পতিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে তাঁর ফেয়ারওয়েল প্যারেড ছিল। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আইপিএস অফিসার বলেন, পুলিশবাহিনীর সবচেয়ে বড়ো গুণ হল সাহস। বিভিন্নরকম কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে তাদের। এই অবস্থায় সৎসাহস দেখাতে পারলে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সম্ভব। এই সাহসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডিজি বলেন, সাহস মানে গুলি চালানো বা মানুষ মারা নয়, এর অর্থ রুখে দাঁড়ানো এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রসঙ্গে রাজীব কুমার বলেন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে আমাদের। এই দেশগুলিতে কোনোকিছু ঘটলেই তার প্রভাব এসে পড়ে এরাজ্যে। এমনকি, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে কিছু ঘটলে তার আঁচও এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গে।ডিজির কথায় মোস্ট স্ট্র্যাটেজিক্যালি ও জিয়োপলিট্যাকালি ইমপর্ট্যান্ট স্টেট পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের আর কোনো রাজ্য নেই যেখানে তিনটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের পুলিশবাহিনীর গৌরব তুলে ধরতে গিয়ে রাজীবের বক্তব্য, এরাজ্যের পুলিশবাহিনী দেশের মধ্যে সেরা। কথায় নয়, কাজ দিয়েই এটা ধরে রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হোক বা সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন, সবদিক থেকেই রাজ্যের পুলিশবাহিনী গোটা দেশে সেরা। লক্ষ্যে অবিচল থেকে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ যেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ডিজি রাজীব কুমারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, এরাজ্য মাওবাদী সমস্যার সমাধান কীভাবে করেছে। এখানেও বাহিনীর প্রশংসায় তিনি ছিলেন পঞ্চমুখ। একইসঙ্গে রাজ্যের পুলিশবাহিনী যেভাবে উৎসব নিয়ন্ত্রণ করে তাতে গর্বিত তিনি। অন্য রাজ্যে উৎসবে প্রাণহানি ঘটলেও এরাজ্যে তা মেটে সুষ্ঠুভাবে। তিনি ওইসঙ্গে এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পুলিশবাহিনীতে শীর্ষকর্তাদের অবদানের সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং হোমগার্ডদের ভূমিকাও ভোলবার নয়। তাঁর কথায়, পুলিশ একটা পরিবার। একসঙ্গে থাকাতেই তাদের শক্তি।