কাগুজে সংস্থা খুলে হাজার কোটি টাকার প্রতারণা, দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিবিআই
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় আলিপুরে দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি, অফিস সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাল সিবিআই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। অভিযোগ, কাগুজে কোম্পানি খুলে বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নেওয়া হয়েছিল। লেনদেনের রসিদ, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের কপি সহ বিভিন্ন জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে এজেন্সি সূত্রে খবর।এই ব্যাংকের প্রতারণার মামলা তদন্ত প্রথমে শুরু করে ইডি। তাদের তদন্তে ধরা পড়ে, কাগুজে কোম্পানি খুলে বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখিয়ে হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। পরে সেই টাকা পাচার হয়েছে অন্যত্র। প্রজেক্টের কাজ কিছুই হয়নি। এই মামলা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে এই ঋণ নেওয়া হয়। প্রথম দফায় নেওয়া হয় ৭৩০ কোটি টাকা। পরে আরও ২৬০ কোটির বেশি ঋণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সবমিলিয়ে এক হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার বিষয় সামনে এসেছে। ঋণ নেওয়ার সময় বিভিন্ন প্রজেক্ট সংক্রান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল ওই কাগুজে কোম্পানিগুলির তরফে। ঋণের টাকা জমা না পড়ায়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারে, কোম্পানিগুলির অস্তিত্ব কেবল কাগজে কলমে। যে প্রজেক্টগুলির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলির কোনও কিছুই হয়নি। এরপরই ব্যাংকের তরফে ইডিকে বিষয়টি জানানো হয়। তারা তদন্তে নেমে দেখে, এই কোম্পানিগুলির মালিক আলিপুর এলাকার দুই ব্যবসায়ী। এই প্রতারণায় জড়িত রয়েছেন ব্যাংকের তদানীন্তন ম্যানেজার সহ আরও অনেকেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নথি পরীক্ষা না করেই ঋণ দিয়ে দেন বলে অভিযোগ। সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। আদালর সিবিআইকে তদন্তভার দেয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ওই দুই ব্যবসায়ী, ব্যাংকের কর্তা সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করে।সেই মামলার তদন্তেই বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুর নিউ রোডের একটি আবাসনে যান তদন্তকারীরা। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা এখানে থাকেন না। আলিপুর অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে যান সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে ওই দুই ব্যবসায়ী ছিলেন। এর সঙ্গেই অন্য একটি টিম ট্যাংরার শিল্পতালুকে ওই কোম্পানির অফিসে পৌঁছয়। সিবিআই সূত্রে খবর, দুটি জায়গায় তল্লাশিতে ঋণের টাকা পাচার হওয়ার নথি মিলেছে। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে এই টাকা বিভিন্ন জায়গায় পাচার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ ঋণের টাকায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি করেছেন এই দুই ব্যবসায়ী। সেসব সম্পত্তি কোথায় কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছে সিবিআই।