• অগ্নিদগ্ধ গোডাউনে উদ্ধার আরও চারটি দেহাংশ, আনন্দপুরে মৃত বেড়ে ২৫
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগুন লাগার পর কেটেছে চারদিন। এখনো উদ্ধার হয়ে চলেছে আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদের জতুগৃহ জোড়া গোডাউনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া কর্মীদের দেহাংশ। বুধবার পর্যন্ত ২১ জনের হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও চারজনের  দেহাবশিষ্ট পাওয়া গেল পোড়া গোডাউনের ভিতর থেকেই। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫। নিখোঁজের সংখ্যা নতুন করে আর বাড়েনি। এদিন ওই দুর্ঘটনাস্থলে দেখা গেল, আগুনে বেঁকে যাওয়া অ্যাসবেস্টাস, লোহার কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার ডেমোলিশন টিম। ক্রেনে উঠে ডেকরেটার্স সংস্থার টিনের চাল কেটে আলাদা করা হয়। সরানো হয় বিভিন্ন লোহার রড ও অন্যান্য কাঠামো। কর্মীরা গ্যাস কাটার, হাতুড়ি প্রভৃতি সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই কাজ করেন। এখনও ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে দেহ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের। তাই এদিন ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলল জোর কদমে। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে হাড়গোড়। সেসব উদ্ধার করতেই এখন রীতিমত কাল ঘাম ছুটছে পুলিশের। আগুনের জন্য যেভাবে কাঠামোগুলি ভেঙে পড়ে রয়েছে, সেগুলি সরাতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ, দমকল ও ডেমোশিন টিম ছাড়া এখন আর কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিন ওই ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ (বিএনএস) ধারা জারি করেছিলেন বারুইপুর মহকুমার এক এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সকালে সেখানে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায়। আজ, শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থলে এই ১৬৩ ধারা লাগু থাকার কথা সেই অর্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন করে আর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এদিন রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে তাদের প্রিয়জনের দেহাংশ তুলে দেওয়াই এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক কর্তা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেকটি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করে, পরিবারগুলিকে অন্তত শেষকৃত্যের সুযোগ করে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। এদিকে, বুধবার ১৬টি এবং এদিন পাঁচটি দেহাংশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এবার সেগুলির ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা, ব্লাড কেমিক্যাল টেস্ট ( শরীরে বিষ আছে কি না জানতে) এবং যে হাড়গোড় পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি মানুষের কি না, সেটা জানতেও হবে বিশেষ পরীক্ষা। সূত্রের খবর, যে দেহাংশগুলি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ, তার মধ্যে পাকস্থলীর অংশও রয়েছে। ময়নাতদন্ত পর্বে তাতে ভাত মিলেছে। সেসবেরও পরীক্ষা করা হবে। একটি দেহ এসেছে, যেটা আধপোড়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মেডিকো লিগ্যাল ডাঃ অমল প্রধান বলেন, ২১টি দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ নির্দিষ্ট জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দেওয়ার পর এখন অধীর অপেক্ষা শুরু ২৭টি পরিবারের। কবে হাতে আসবে প্রিয়জনের দেহের শেষাংশ! উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা শুরু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
  • Link to this news (বর্তমান)