৮ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ফাঁদে পড়েও বুদ্ধির জোরে রক্ষা পেলেন হাওড়ার বৃদ্ধ
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছিল ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে পরিকল্পিত প্রতারণা। কলকাতা পুরসভার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে টার্গেট করে ধাপে ধাপে ফাঁদ পেতেছিল আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। তবে শেষমেশ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রতারকদের ভিডিও কলে রেখেই থানায় ছুটে গিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা খোয়ানোর হাত থেকে বাঁচলেন ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধ। হাওড়া সাইবার ক্রাইম ও মালিপাঁচঘড়া থানার তৎপরতায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান তিনি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকার বাসিন্দা ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে গত ২০ জানুয়ারি ফোন করে জানানো হয়, তাঁর ফোন নম্বর নাকি মহারাষ্ট্রে একাধিক প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ভয় দেখিয়ে তাঁকে ভিডিও কলে আনা হয়, যেখানে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার সেজে ধারাবাহিকভাবে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি, ওই মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে বলেও দাবি করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তিনটি ব্যাংকে রাখা ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসেন। বুধবার তাঁকে টাকা ট্রান্সফারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় তাঁর সন্দেহ হওয়ায় ভিডিও কল চলাকালীন ফোন বাড়িতে রেখে তিনি ছুটে যান মালিপাঁচঘড়া থানায়। বিষয়টি জানামাত্র সাইবার ক্রাইম শাখা তৎপর হয়। দ্রুত তাঁর মোবাইলের সিম খুলে নেওয়া হয় এবং তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ইউপিআই পরিবর্তন করা হয়। ফলে প্রতারকরা টাকা হাতাতে পারেনি। হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইমের এক কর্তা জানান, প্রতারকদের এই চক্রটি সম্ভবত কম্বোডিয়া থেকে অপারেট করছিল। ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও প্রবীণ নাগরিকরা এখনও এই ধরনের ফাঁদে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা খোয়ানোর পরেও থানায় জানাতে দেরি হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক ফোন বা ভিডিও কলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।