অন্য রাজ্যের ভোটারের নাম বাংলাতেও? ধরতে ব্যর্থ কমিশনের সফটওয়্যার, এসআইআরের উদ্দেশ্য নিয়েই বিতর্ক চরমে
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরিই নাকি এসআইআরের মূল লক্ষ্য! আগাগোড়া এমনই দাবি করে এসেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এসআইআরের সেই ‘উদ্দেশ্য’ নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। কারণ ভিন রাজ্যের ভোটারের নাম বাংলার তালিকায় থেকে থাকলে তা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ কমিশন! সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত সফটওয়্যার নাকি কাজই করছে না! অর্থাৎ, অন্য রাজ্যের কোনো ভোটার যদি বাংলার তালিকাতেও নাম লিখিয়ে থাকেন, তা ধরতেই পারবে না কমিশন! ফলে এত তোড়জোড় করে এসআইআরে নামলেও আদৌ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হবে কি?দেশে এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার বহু আগে কর্ণাটক, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে একই ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় থাকার অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এর কিছুদিন পর কমিশন জানায়, একই ভোটারের নাম দু’জায়গায় থাকলে তা চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চালু করা হচ্ছে ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’ নামে একটি নতুন সফটওয়্যার। এই বিশেষ সফটওয়্যার একই নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের মিল দ্রুত চিহ্নিত করে দেবে। সেটা বাদও যাবে। অর্থাৎ, ব্রাজিলের হেয়ারড্রেসার লারিসা নারির নাম যে হরিয়ানার ২২ জায়গায় জ্বলজ্বল করছিল, তেমন ঘটনা আর ঘটবে না।কিন্তু সূত্রের খবর, এই সফটওয়্যার কাজই করছে না। ফলে একই ভোটারের নাম দুই বা তার বেশি জায়গায় থাকলে চিহ্নিত করার উপায় কমিশনের নেই। আর তাই বিশেষ পর্যবেক্ষক, মাইক্রো অবজার্ভারদের নজরদারিতে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে অন্য রাজ্যের ভোটারের নাম যদি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় থেকে যায় এবং তিনি যদি নিজে থেকে তা বাদ দেওয়ার আবেদন না জানান, সেক্ষেত্রে কমিশনের কিছু করার নেই!সম্প্রতি বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় মহারাষ্ট্রের বিজেপির জেলা পরিষদ প্রার্থী উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গলের নাম থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি আদপে সোলাপুরের বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় তিনি আছেন এবং সেখানকার জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থীও হয়েছেন। অথচ তাঁর নাম পশ্চিমবঙ্গের ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল! শুধু তাই নয়, তাঁকে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছে। এবং খসড়া তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে।এই ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু জানা যাচ্ছে, কমিশনের ওই ‘শক্তিশালী’ সফটওয়্যার কাজ করেনি। তাই উজ্জ্বলা আপ্পার নাম দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় থাকলেও চিহ্নিত হয়নি। চাপের মুখে এখন কমিশন জানাচ্ছে, ‘সরেজমিনে তদন্তের পর জানা গিয়েছে, উজ্জ্বলার নাম মহারাষ্ট্রের সাঙ্গোলা বিধানসভার ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। এবং তিনি সেখানকার ভোটার হিসাবেই থাকতে চান। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে তিনি আবেদন জানাবেন।’ না জানালে? দুই রাজ্যেরই ভোটার তিনি!এখন প্রশ্ন হল, এই ঘটনা প্রকাশ্যে না এলে উজ্জ্বলার নাম দুই রাজ্যের ভোটার তালিকাতেই থেকে যেত। আরও বড় উদ্বেগের বিষয়— এমন কত উজ্জ্বলা রয়েছেন, তা জানেই না কমিশন। ফলে মুখে স্বচ্ছ ভোটার তালিকার দাবি তুললেও, তার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আর হ্যাঁ, এসআইআরের উদ্দেশ্য নিয়েও।