• কলকাতার আইভিএফ সেন্টারকে ঢাল করে শাসনের শিশু বিক্রি অন্ধ্রপ্রদেশে
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কলকাতার বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে আনাগোনা ছিল মহিলা দালাল সোনালি সাহার। চিকিৎসকদের অনেকেই তার পরিচিত। সেই সূত্র ধরেই অন্ধ্রপ্রদেশে একরত্তি শিশুকন্যাকে বিক্রির সুপারিশ করেছিল সে। শাসনে শিশুকন্যা পাচারকাণ্ডে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের কাছে। এখানেই অবশ্য শেষ নয়। অন্ধ্রপ্রদেশে সশরীরে গিয়ে নিজের সন্তানকে ‘বিক্রি’ করেছে বাবা-মা। টাকা নেয় স্বামী। আর স্ত্রী তুলে দেয় মেয়েকে। ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য জানতে পেরেছে শাসন থানার পুলিশ।শাসনের দাদপুর পঞ্চায়েতের বহিরা কালীবাড়ির বাসিন্দা রবীন পাসোয়ান ও টোটোন সরকার তাদের ছ’মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রি করে। দত্তপুকুরের বামনগাছির বাসিন্দা সোনালি সাহা ওরফে জাসমিনা বিবির যোগসাজশে অন্ধ্রপ্রদেশের এক বাসিন্দার কাছে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে তারা। দম্পতি ও দালাল সোনালিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, একটি নয়, সোনালি এমন একাধিক চক্রের দালাল। বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে তার যাতায়াত রয়েছে। কলকাতার একটি আইভিএফ সেন্টারে চিকিৎসা করাতে এসেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক দম্পতি। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। তাঁদের সেই চাহিদার কথা কানে আসে সোনালির। শুরু করে চিরুনি তল্লাশি। এই পর্বে শাসনের রবীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোনালি, বাড়িতে গিয়ে রবীন ও তার স্ত্রী টোটোনের সঙ্গে মিটিংও করে। কন্যাসন্তানের দাম ঠিক হয় ৫০ হাজার টাকা। এরপর ওই শিশুকে নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে যায় রবীন, টোটোন ও সোনালি। সেখানে গিয়ে হাত বদল হয় শিশুর। জেরায় পুলিশকে সোনালি একথা জানিয়েছে পুলিশকে। আবার কখনও সোনালি বলছে, আইভিএফ সেন্টারেই অন্ধ্রপ্রদেশের দম্পতির হাতে তারা শিশুকন্যাকে দিয়ে আসা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি করছে সোনালি। এই বিষয়টিও ভাবাচ্ছে পুলিশকে। শিশুকন্যার বাবা-মা এই প্রসঙ্গে মুখ খুলছে না। সবমিলিয়ে সোনালির বয়ানের উপর গুরুত্ব দিয়েই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে শাসন থানার পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জানান, শিশুকন্যাকে অন্ধ্রপ্রদেশে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের পর আরও তথ্য জানা যাবে।  ধৃত সোনালি সাহা।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)