• ভাইরাল না হলেই কি কনটেন্ট অর্থহীন!
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: রোজ ঘটে যাহা। তার সব কিছুই কেন ‘ভাইরাল’ হয় না, আহা!

    ধরা যাক, আপনি একটা গল্প বলতে চান। সেই গল্প বলার জন্য এখন আর আপনাকে সংবাদপত্র বা প্রকাশকের দপ্তরে না ছুটলেও হবে। সোশ্যাল মিডিয়া এসে এই সুযোগ এখন হাতে হাতে, জাস্ট একটা ট্যাপেই সম্ভব। তবে, গল্প লিখলেই তো হবে না, দেখা গেল গল্প পোস্ট করার পরে কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও লাইক আটটি, কমেন্টস একটি, শেয়ার জ়িরো! তা হলে কি গল্পটা ভালো নয়? নাকি পাঠক মনেই করল না, গল্পটা পড়া দরকার? তাহলে কি যে সব গল্প সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় ‘ভাইরাল’, সেগুলিই শুধু ভালো গল্প? বাকিগুলো ফাউ? শুধু তো গল্প নয়, ভিডিয়ো, ছবি—সব কিছুর ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য!

    সোশ্যাল মিডিয়ার এই বিস্ফোরণের যুগে অমোঘ প্রশ্নটা হলো, ‘ভাইরাল না হলে কি কন্টেন্ট, কন্টেন্ট নয়?’ এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই আলোচনার আয়োজন হয়েছিল বৃহস্পতিবার এই সময়–এর প্যাভিলিয়নে ১৯৮ নম্বর স্টলে। আলোচনায় ছিলেন দু’জন বিখ্যাত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, অরিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী। বক্তারা অবশ্য নিজেরাই বেশ ‘ভাইরাল’। অরিত্র কাজ করে ভিডিয়ো ফরম্যাটে, আর তৃণাঞ্জন কাজ করেন টেক্সট–ফটো ফরম্যাটে। দু’রকম ভাবে তাঁরা জনপ্রিয়, বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় ‘ভাইরাল’। তবু অরিত্র আর তৃণাঞ্জনরা মনে করেন, কন্টেন্ট তৈরি হবে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। ভাইরাল হওয়া বা না হওয়া— সেটা কিছুটা হলেও নিয়তি।

    অরিত্রর কথায়, ‘ভাইরাল হওয়াটা একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের হাতে নেই। মানুষের ভালো লাগলে সেটা ভাইরাল, আর না লাগলে কী করে আরও ভালো কন্টেন্ট তৈরি করা যায় সেটার অনুসন্ধান করাটাই একজন ক্রিয়েটরের কাজ।’ সুরটা এক হলেও তৃণাঞ্জনের সংযোজন, ‘আমরা অবশ্যই ভিউজ়, লাইক কাউন্ট করি। কিন্তু থ্রি ইডিয়টস সিনেমার কথা ধার করেই ব‍লতে হয়, লাইফে এক্সেলেন্সের পিছনে ছোটা দরকার। সাকসেস তার মাধ্যমেই আসবে। ভালো কন্টেন্ট হলে, মানুষের সেটা পছন্দ হবেই।’ তাই কাজ মন দিয়ে করার পক্ষেই সায় দিলেন এই দুই ক্রিয়েটর। কারণ ভাইরাল হওয়াটা যে সত্যিই ক্রিয়েটরের হাতে নেই। আর সে কথা অরিত্র বা তৃণাঞ্জনের থেকে ভালো আর কে–ই বা জানেন!

  • Link to this news (এই সময়)