'সমঝোতার যেটুকু সুযোগ রয়েছে, আদৌ থাকবে?' সেলিমকে প্রশ্ন কংগ্রেসের
আজ তক | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের নিউটাউনের হোটেলের বৈঠক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত টপিক। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কের সঙ্গে জোট করবে CPIM? এই নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম জোটসঙ্গী কংগ্রেসের 'হাত' কি তবে ছেড়ে দেবে বামফ্রন্ট? নাকি সংযুক্ত মোর্চা পার্ট ২-তে হুমায়ুনের এন্ট্রি হবে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস তথা শুভঙ্কর সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ CPIM রাজ্য সম্পাদকই। যা নিয়ে তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের কটাক্ষ,'নতুন প্রেমিকা পেয়ে গেলে পুরনোকে ভুলে যায় মানুষ!' এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছে কংগ্রেস? bangla.aajtak.in-এ জানালেন দলের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী।
সেলিমকে প্রশ্ন কংগ্রেসের
সুমন রায়চৌধুরী বলেন, 'আমাদের বামফ্রন্টের সঙ্গে তো কোনও জোট হয়নি,আসন সমঝোতা হয়েছিল নির্বাচনের সময়ে। দুর্নীতিগ্রস্থ তৃণমূল ও BJP-কে সরানোর জন্য যাতে বিরোধী ভোট ভাগ না হয় তার জন্যই এই সমঝোতা। আমাদের প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জানিয়েছিলেন, বুথ স্তর থেকে ২৯৪ আসনেই সংগঠন মজবুত করতে হবে। এর মধ্যে মহম্মদ সেলিম খারাপটা কোথায় দেখলেন? এর মধ্যে কি কোনও নেগেটিভ অ্যাটিটিউড আছে? আমরা তো বুঝতে পারছি না।'
হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কী ভাবছে কংগ্রেস?
সুমন রায়চৌধুরীর কথায়, 'উনি তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করছেন, নওশাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তাতে তো আমাদের আপত্তি নেই। কিন্ত উনি সংবাদমাধ্যমে আগ বাড়িয়ে শুভঙ্কর সরকার জল মাপছেন বলে মন্তব্য করছেন। ওঁর দলের নেতারা টিভি চ্যানেলে বসে বলছেন,তমান্না খাতুনের বাবা CPIM করত। কালীগঞ্জ নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে কাজ করায় মেয়ের প্রাণ গিয়েছে। কংগ্রেস ও বামেদের আসন সমঝোতার মধ্যে তমান্না খাতুন কোথা থেকে চলে এল? এই জটিল ন্যারেটিভ কি আগামী দিনে একসঙ্গে কাজ করার সযোগ থাকলেও, তা কি আদৌ মজবুত হবে?'
হুমায়ুনকে নিয়ে কংগ্রেস এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আসন সমঝোতা হলেও তৃণমূলের এই সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেস যে খুব একটা আগ্রহী তা অনেকটাই স্পষ্ট। সুমন বলেন, 'মহম্মদ সেলিম কেন গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে যিনি বলেছিলেন, ভাগীরথীদের সংখ্যালঘুদের ভাসিয়ে দেবেন। হুমায়ুন বলেছেন ভোটে জিতে দিদির কাছে ফেরত যাব, দিদি জামাই আদর করে আমায় নিয়ে নেবে। কী কারণে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন?'
সমঝোতা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?
তাঁর আরও বক্তব্য, 'আমরা আসন সমঝোতায় যাব কি যাব না, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মহম্মদ সেলিমরা যদি ধৈর্য্য ধরতে না পারেন তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। অধীরবাবু জোটে রাজি ছিলেন, শুভঙ্করবাবু তৃণমূলের প্রতি নরম, এই ধরনের মন্তব্য কি তাঁর মুখে সমীচিন? এত অধৈর্য হলে কি যেটুকু সুযোগ রয়েছে সমঝোতার, তা থাকবে? ওঁর তো একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদের তো এটা বোঝা উচিত।'