• ফের একই ফ্রেমে অঞ্জন দত্ত-রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শহুরে জীবনের ইঁদুর-দৌড়ে হারিয়ে যাওয়া গল্প বলবে ‘প্রত্যাবর্তন’
    আজকাল | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • টলিপাড়ায় বদলাচ্ছে ছবির চেনা ঘরানা। পাল্টাচ্ছে পরিচিত ভাবনা। গল্পের একচেটিয়া ছকের বাইরে দর্শক মনে জায়গা করে নিচ্ছে অন্য ধারার ছবি। বাস্তবের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হচ্ছে একের পর এক বাংলা সিনেমা। এবার তেমনই সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’। শহুরে জীবনের ইঁদুর-দৌড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষের বাস্তবধর্মী গল্প বলবেন পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত। প্রায় ৩১ বছর পরে এই ছবির হাত ধরে ফিরছেন অঞ্জন দত্ত-রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জুটি।

    ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হওয়া এক চিকিৎসক পরিবারকে ঘিরে। শুধুমাত্র 'ভালো থাকা' আর উন্নত ভবিষ্যতের আশায় স্ত্রী শালিনী ও তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে মফস্বলের এক মেডিক্যাল কলেজের চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন ডঃ দীপঙ্কর সান্যাল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবনে গ্রাস করতে শুরু করে শহুরে সাফল্য, প্রতিপত্তি ও বিলাসিতার মোহ।

    এভাবেই কেটে যায় বারো বছর। অথচ সেই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে তাঁদের কিশোরী কন্যা দিশা। একাকিত্ব আর নিজের পরিচয় খোঁজার তাগিদে সে আশ্রয় নেয় সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক ভয়ংকর বিপর্যয়, যার ফলে গোটা সমাজ দাঁড়িয়ে যায় এই নামজাদা সার্জেন ও তাঁর সোশ্যালাইট স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সমাজ চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। তখনই নিজেদের ভুল বুঝে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দীপঙ্কর ও শালিনী। শহর ছেড়ে তারা ফিরে যায় নিজেদের শিকড়ে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই।

    অঞ্জন দত্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়াও বাস্তবধর্মী এই ছবিতে দেখা যাবে শিলাজিৎ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখার্জি, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরব তপাদার, দেবরঞ্জন নাগ, অরুণাভ খাসনবিশ, দীপাঞ্জন ঘোষ (আরজে দীপ) সহ একঝাঁক পরিচিত ও নতুন মুখ। নতুন শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন মিষ্টু।

    পরিচালক সমর্পণের কথায়, "এই গল্প কোনো একক পরিবারের নয়, আমাদের সময়ের গল্প। দ্রুত বদলে যাওয়া শহর, সাফল্যের দৌড়, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলকানি আর “ভালো থাকার” সংজ্ঞার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প।" তাঁর মতে, "দশর্ক যেন সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে শুধু গল্প নয়, নিজের জীবন নিজেদের সম্পর্ক এবং নিজেদের ভালো লাগা নিয়েও ভাবতে শুরু করেন।"

    আধুনিক শহুরে জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেই এই ছবির পরিকল্পনা। ছবিটি প্রযোজনা করছে শ্রী অভিজ্ঞান ড্রিমওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড। পরিচালনার সঙ্গে চিত্রনাট্যের দায়িত্বে রয়েছেন সমর্পণ সেনগুপ্ত। প্রযোজক হিসেবে যুক্ত অভিজিৎ চ্যাটার্জি।
  • Link to this news (আজকাল)