• খারাপ খাবার: চার বছরে তিন কোটি টাকা জরিমানা রেলের ভেন্ডারদের
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: অতীতের ছায়াটুকুও আর নেই। একটা সময়ে নাকি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা অপেক্ষা করে থাকতেন, কখন রেলের খাবার আসবে তার জন্যে। ভারতীয় রেলের দূরপাল্লার ট্রেনে খাবার পরিবেশনের ভার থাকত যে সব বেসরকারি সংস্থার উপরে, তাদের কর্মীরা ধোপদুরস্ত উর্দি পরে ঝকঝকে বাসনে যে খাবার নিয়ে আসতেন, তার সুগন্ধেই যাত্রীদের মন খুশি হয়ে উঠত। কিন্তু এখন? ভারতীয় রেলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে না, এমন দিন নেই। নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করার কারণে গত চার বছরে রেল বিভিন্ন ভেন্ডারকে প্রায় ৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এমনটা জানিয়েছেন খোদ রেলমন্ত্রী।

    রেলযাত্রীদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কয়েক বছর আগে ‘রেলমদদ’ পোর্টাল চালু হয়েছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে রেল নিয়ে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি আরও শক্তিশালী, সহজতর, সহজলভ্য হয়েছে। যাত্রাপথে যে কোনও রকম সমস্যায় পড়লে যাত্রীরা এখন অনেক সহজে রেলকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারছেন। প্রতিদিন যত অভিযোগ জমা পড়ে, তার অনেকটাই খাবারের মান সম্পর্কিত। দূরপাল্লার ট্রেনে খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে রয়েছে ইন্ডিয়ান রেল কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)।

    ওই সংস্থা জানাচ্ছে, ভারতীয় রেল প্রতি বছর দূরপাল্লার ট্রেনে গড়ে প্রায় ৫৮ কোটি প্লেট খাবার পরিবেশন করে। খাবারের মান নিয়ে বছরে গড়ে ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। আপাত ভাবে এই সংখ্যাটি বিপুল মনে হলেও অভিযোগের হার মোট প্লেটের সাপেক্ষে ‘মাত্র’ ০.০০০৮ শতাংশ। তবে প্রতিটা অভিযোগকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

    আইআরসিটিসি জনিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে বিভিন্ন ভেন্ডার সংস্থাকে গত চার বছরে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনে খাবার পরিবেশনের ভার আইআরসিটিসি এক–একটি জ়োন ধরে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থাকে দিয়েছে। খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার জন্যে প্রতিটি ‘বেস কিচেন’–এ (প্রধান রান্নাঘর) আধুনিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রান্নার কাজ পর্যবেক্ষণে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি খাবার তৈরির জন্যে তেল, আটা, চাল, ডাল, মশলাপাতি ও দুগ্ধজাত পণ্য জনপ্রিয় এবং নামী ব্র্যান্ডের থেকে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে।

    খাদ্যসুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি তদারকিতে বেস কিচেনগুলিতে ফুড সেফটি সুপারভাইজার নিয়োগ, ট্রেনের মধ্যে আইআরসিটিসি–র কর্মী মোতায়েন এবং খাবারের প্যাকেটে কিউআর কোডও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রান্নাঘরের নাম ও প্যাকেজিংয়ের তারিখের মতো বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও খাবারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই রেলও কড়া পদক্ষেপ করছে। এই প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যসভায় বলেন, ‘ট্রেনের খাবারের খারাপ মান নিয়ে কোনও যাত্রী অভিযোগ করলে যদি সংশ্লিষ্ট ভেন্ডারের কাজে গাফিলতি প্রমাণ হয়, তা হলে দ্রুত এবং যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)