• মাথায় ঋণের বোঝা, মাসকাবারি খরচ নিয়ে অশান্তির জেরেই প্রাণ গেল দিল্লি পুলিশের SWAT কম্যান্ডোর
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিয়ের পর থেকেই নিত্য অশান্তি। স্বামী অঙ্কুরের সঙ্গে খুঁটিনাটি নিয়ে লেগে যেত দিল্লি পুলিশের SWAT কম্যান্ডো কাজল চৌধুরির। ঋণও ছিল অনেক। গত ২২ জানুয়ারি এই সব নিয়েই অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ, তখনই ডাম্বেল দিয়ে সন্তানসম্ভবা কাজলের মাথায় মারেন নিখিল। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন কাজল। তদন্তে উঠে এসেছে এমনটাই। ইতিমধ্যেই নিখিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

    অঙ্কুর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বড় পদে কাজ করেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন অঙ্কুর। তা শোধ করতে মাসকাবারি খরচে টান পড়ছিল। সেই নিয়ে কাজলের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত। ২৭ জানুয়ারি অঙ্কুরের সঙ্গে এই নিয়েই কথা কাটাকাটি শুরু হয় কাজলের।

    চার মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা হন কাজল। একটু সাবধানেই থাকছিলেন তিনি। কথা কাটাকাটি শুরু হতেই পাশের ঘরে গিয়ে ভাই নিখিলকে ফোন করেন তিনি। এমনিতে নিখলের কাছে নিজেদের দাম্পত্য অশান্তির কথা গোপনই রাখতেন তিনি। তবে নিখিল সবকিছুই জানতেন। সেই দিন আর পারেননি। লাগাতার অশান্তির জেরে তিতিবিরক্ত হয়ে নিজের ভাইকে সব খুলে বলছিলেন। সেই সময়েই ছুটে আসেন অঙ্কুর।

    ঘরের মেঝেতে একটা ডাম্বেল রাখা ছিল। অভিযোগ, সেটা তুলেই স্ত্রীর মাথায় বসিয়ে দেন অঙ্কুর। ফোনের ওপারে তখনও নিখিল রয়েছেন। সেটা বুঝে চিৎকার করে অঙ্কুর বলতে থাকেন, ‘তোর বোনকে মারছি। এসে ডেড বডি নিয়ে যা। আর কলটা রেকর্ড করে রাখ। জেনে রাখ, পুলিশ কিছু করতে পারবি না আমার।’ রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কাজল। প্রথমে অঙ্কুরই তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গাজিয়াবাদের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে সেখানেই মৃত্যু হয় কাজলের।

    নিখিলই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রথমে দরজায় কাজলের মাথা ঠুকে দেন অঙ্কুর। তার পরে ডাম্বেল দিয়ে মারেন।’ কাজলের বাবা রাকেশ শর্মা জামাইয়ের বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘সোনার গয়না, নগদ, বুলেট বাইক দিয়েছিলাম। তার পরেও বলত, অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হলে গাড়ি দিত। পরে আমার মেয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করে। কিন্তু তার পরেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।’

  • Link to this news (এই সময়)