• বনগাঁ, রানাঘাট রেলপথে নতুন প্রকল্পের সবুজ সংকেত, কী সুবিধা হবে? কারা উপকৃত হবেন?
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিধানসভা নির্বাচনের আগে রেল পরিষেবার উন্নতিতে জোর রেল মন্ত্রকের। রেল মন্ত্রক অসমাপ্ত হয়ে থাকা ৪টি নতুন রেল প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া শুরু। মূলত, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষিজ পণ্যের দ্রুত পরিবহণ, বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে নতুন রেলপথগুলি বলেই দাবি করেছে রেল।

    উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া মিলিয়ে মোট ৪টি নতুন রেলপথ হবে। বনগাঁ – চাঁদাবাজার (১১.৫ কিমি), বনগাঁ – পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি), চাঁদাবাজার – বাগদা, রানাঘাট (আড়ংঘাটা) – দত্তপুলিয়া (৮.১৭ কিমি)।

    ১) ১১,৫ কিমি দীর্ঘ নতুন রেলপথ বনগাঁ জংশন থেকে চাঁদাবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত করবে।

    ২) এই বিভাগে ৩টি বড় সেতু এবং ১টি ছোট সেতু নির্মিত হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন প্ল্যাটফর্ম, শেড, ফুট ওভার ব্রিজ, টিকিট কাউন্টার-সহ আধুনিক স্টেশন বিল্ডিং তৈরি হবে।

    ১) ২০ কিমি দীর্ঘ রেললাইনটি বনগাঁ থেকে কল্যাণীর অভিমুখে পোড়ামহেশতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করবে।

    ২) এই সেকশনে ১টি বড় সেতু এবং ৩৭টি ছোট সেতু তৈরি হবে। বনগাঁ-রানাঘাট শাখা লাইনের ২১ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ের কাছ থেকে (বনগাঁ স্টেশনের প্রায় ১ কিমি আগে) এই নতুন লাইনটি শুরু হবে।

    ১) এই ব্রডগেজ লাইনটি বনগাঁ-পেট্রাপোল সেকশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বনগাঁ-বাগদা স্টেট হাইওয়ের সমান্তরালে তৈরি হবে।

    ২) চাঁদাবাজার ও বাগদাকে সংযোগকারী এই লাইনে ২টি বড় সেতু এবং ১৪টি ছোট সেতু থাকবে। আধুনিক যাত্রী সুবিধা-সহ নতুন স্টেশন ভবন নির্মিত হবে।

    ১) মোট ৮.১৭ কিমি দীর্ঘ লাইনটি আড়ংঘাটা থেকে শুরু হয়ে রাজ্য সড়কের সমান্তরালে দত্তপুলিয়া পর্যন্ত যাবে।

    ২) এই সেকশনে ১৫টি ছোট সেতু নির্মাণ করা হবে।

    বনগাঁ – চাঁদাবাজার রেলপথের জন্য পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্টের মাধ্যমে বাণিজ্যে উন্নতির পথ অনেকটাই খুলে যাবে। বনগাঁ – পোড়ামহেশতলা রেলপথের জন্য স্থানীয় কৃষিজ পণ্য পরিবহণের অনেকটাই উন্নতি ঘটে পারে। অন্য দিকে নদিয়া জেলার রানাঘাট একটি প্রাচীন ও জনবহুল বাণিজ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র। শিয়ালদহ থেকে ৭৩ কিমি দূরে অবস্থিত এই জংশনটি গেদে ও লালগোলার সঙ্গে যুক্ত। অন্য দিকে, দত্তপুলিয়া নদিয়া জেলার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ এলাকা, যা রানাঘাট শহর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষদের ট্রেন ধরতে প্রায় ৯ কিমি পথ ব্যয়বহুল সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। নতুন রেলপথ এই সমস্যা অনেকটাই দূর করবে।

    বিষয়টি নিয়ে বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা, বাগদার রেললাইন এবং সাবওয়ে নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। নতুন রেলপথের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বার রাজ্য সরকারকে জমি অধিগ্রহণ করে দিতে হবে। সেই ব্যাপারে রাজ্যের কাছে আবেদন জানানো হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)