• রাজ্যে Nipah Virus নিয়ে Update! বড় কথা জানাল WHO
    আজ তক | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • Nipah Virus Risk in India: নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের আবহেই স্বস্তির বার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। WHO জানিয়েছে, ভারতে নিপা সংক্রমণের ঝুঁকি আপাতত 'মডারেট'। অর্থাৎ, মাঝারি মাত্রার। নজরদারি প্রয়োজন। তবে এখনই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনও বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই। স্পষ্ট জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা মোকাবিলায় ভারতের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর যথেষ্ট সক্ষম। তাই অযথা আতঙ্কের কিছু নই। গত ২০২৫ এর ডিসেম্বর থেকে ভারতে নিপার দু'টি কনফার্ম কেসের খবর মিলেছে। দু'জনই এ রাজ্যের বাসিন্দা। দু'জনেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। একজন মহিলা ও অপরজন পুরুষ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তাঁদের উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত স্নায়বিক জটিলতাও আসতে শুরু করে। জানুয়ারির শুরুতেই দু'জনকেই আইসোলেশনে পাঠানো হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর সরকারি হাসপাতালের ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে টেস্ট হয়। সেখানেই প্রথম নিপা সংক্রমণের সম্ভাবনা ধরা পড়ে। ১৩ জানুয়ারি পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি সংক্রমণ কনফার্ম করে। তারপর থেকেই নিপা ভাইরাস চিন্তিত বাংলার অনেকে।

    WHO-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, পুরুষ রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে মহিলা রোগী এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, দু'জন রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদেরও রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। পাশাপাশি ভুয়ো ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো নিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নিপার মাত্র দু'টি নিশ্চিত সংক্রমণই পাওয়া গিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ২ জনের মধ্যে ধরা পড়েছে। তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। 

    উল্লেখ্য, এশিয়ার একাধিক দেশ; হংকং, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও নেপাল; নিজেদের দেশে কোভিডের সময়কার মতোই স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে WHO জানিয়েছে, ভারতে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

    নিপা সম্পর্কে যা জানা জরুরি
    নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের শরীরে থাকে। এর আগে বাদুড়ে খাওয়া ফল বা খেজুরের রস থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ঢোকার ঘটনা দেখা গিয়েছে। নিপা আক্রান্তদের জ্বর, মাথাব্যথা এবং এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মৃত্যুহার তুলনামূলক ভাবে বেশি হলেও, নিপা কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সহজে ছড়ায় না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

    ভারতের নিপা নতুন কিছু নয়। কেরলে দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাইরাস সুপরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে সেখানে একাধিকবার নিপা সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাংলায় যে ২ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তা গোটা দেশের সাত নম্বর রেজিস্টার্ড কেস। পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়। এর আগে ২০০১ ও ২০০৭ সালে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিপার প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। সেগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ ছিল বলেই পর্যবেক্ষণ WHO-র।

    অর্থাৎ, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও আতঙ্কের নয়। এমনটাই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 
  • Link to this news (আজ তক)