জি ২৪ ঘণ্টা ড়িজিটাল ব্যুরো: ভুল চিকিত্সায় দুটি কিডনিই নষ্ট প্রসূতির! ডায়ালিসিস চলছে নিয়মিত। অভিযোগ, সিজরিয়ান অপারেশনে সেলাই করেছিলেন ভুয়ো চিকিত্সক। অপারেশনের মূল দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ডিপ্লোমাধারী অর্থোপেডিক! আদালতে নির্দেশে অবশেষে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল পুলিস। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের রতুয়ায়।
ঘটনাটি ঠিক কী? মালদহের পুখুরিয়া থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা রেশমিরা খাতুন। গত বছরের অগাস্টে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে সামসি এলাকার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন তিনি। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্মও দেন। কিন্তু মা হওয়ার পর থেকে রেশমিরার শারীরিক অবস্থায় দ্রুত অবনতি হতে থাকে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, প্রথমে বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দিতে চায়নি নার্সিংহোমে। পরে যখন শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়, রেশমিরাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মালদহ জেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। প্রায় দুই মাস ধরে চিকিত্সা চলে ওই তরুণীর। ১৩ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। চিকিত্সকরা জানান, দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এদিকে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর, নার্সিংহোমে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতর ও মহকুমাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণীর পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, অপারেশনের পর সেলাই করেছিলেন নার্সিংহোমের মালিক মহম্মদ আনারুল ইসলাম। তিনি আসলে ভুয়ো চিকিত্সক। মূল অপারেশন করে ছিলেন ডঃ তাপস কুমার বণিক। তিনি নাকি ডিপ্লোমাধারী অর্থোপেডিক! মামলা গড়ায় চাঁচল মহকুমা আদালতে।
দিন কয়েক আগে চিকিত্সায় চরম গাফিলতির ছবি ধরা পড়েছিল নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। বুধবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ঘোলপুকুর গ্রামে বাসিন্দা মোহন মাইতির স্ত্রী। এদিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক ও নার্স নাকি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন! প্রসূতির শাশুড়ি সবিতা মাইতির দাবি, বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। শেষে প্রসূতি লেবার রুমে নিয়ে যেতে বলা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, লেবার রুমে কার্যত কোনও চিকিত্সা পরিষেবাই মেলেনি। সেখানে উপস্থিত নার্সরা 'এখন কিছু হয়নি' বলেই দায় সারেন। শেষমেষ নিরুপায় হয়ে প্রসবের সময়ে শাশুড়ি সবিতা মাইতিকেই হাত লাগাতে হয়। ততক্ষণে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এবং সদ্যোজাত শিশু কাহিল অবস্থায় জন্ম নিয়ে পরে মারাও যায়।
এদিকে নন্দীগ্রামে এখন সেবাশ্রয় ক্যাম্প চলছে। বিজেপি নেতা প্রলয় পাল বলেন, 'ঢিল-ছোঁড়া দূরত্বে সেবাশ্রয় ক্যাম্প চলছে। এদিকে নন্দীগ্রামের হাসপাতালগুলির এমন বেহাল অবস্থা।' বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম ব্যর্থ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চিকিৎসা-গাফিলতির প্রসঙ্গ তুলে এর তদন্তের দাবি তোলে সংশ্লিষ্ট মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে বলা হয়েছে, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। নন্দীগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার সুনীলবরণ জানার বয়ান অনুযায়ী, বিষয়টি দলগতভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, কী হয়েছে তা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখারও অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অপর দিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক বা হাসপাতালের নার্সেরা কিছুই বলতে চাননি।