প্রসেনজিৎ মালাকার: কথাতেই আছে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ! কত কী যে সেখানে ঘটে অহরহ... এবার আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে নজর কাড়ল 'রুপোর রাজনীতি'! রুপোর দাম যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনই রাজনীতিতেও এই রূপোলি ধাতু এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে! যেমনটা ঘটল বীরভূমে। রুপোর উপহারে ভর করেই বীরভূমে চলল অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের শক্তি প্রদর্শন।
জেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী দুই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ। তাদেরকে এবার রুপোর উপহার দিয়েই চলল শক্তি প্রদর্শন ও সমর্থন জানানোর প্রতিযোগিতা। কোথাও রুপোর মুকুট, কোথাও বাঁশি বা শঙ্খ— রুপোর উপহারের মাধ্যমে দলীয় নেতার প্রতি নিজেদের আনুগত্য স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার সাঁইথিয়ার একটি উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে কাজল শেখকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় রুপোর শঙ্খ। সংবর্ধনার মঞ্চে কাজল শেখ বলেন, ইসলাম পরিবারে জন্ম হলেও তাঁর হাতে শঙ্খ তুলে দিয়ে যে সম্মান জানানো হয়েছে, তাতে তিনি আপ্লুত ও গর্বিত। ভবিষ্যতে সকলের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগেই আবার মহম্মদ বাজার ২ নম্বর ব্লকের এক জনসভায় অনুব্রত মণ্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হয় রুপোর বাঁশি। পাশাপাশি রাজনগর ব্লকের একটি দলীয় সভায় তাঁকে রুপোর মুকুট পরিয়েও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে রুপোতেই চলল নেতার 'ওজন' মাপার পালা! তবে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। গত বছরই নানুরে কাজল শেখকে পাঁচ কেজি ওজনের রুপোর মুকুট উপহার দেওয়া হয়েছিল। একই এলাকায় অনুব্রত মণ্ডলও রুপোর তরোয়াল পেয়েছিলেন।
এই রুপোর উপহার ঘিরে বিজেপির কটাক্ষ, অনুব্রত ও কাজল শেখের মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কারণেই তৃণমূলের একাংশ দুই নেতাকে খুশি রাখতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবি মানতে নারাজ। দলের বক্তব্য, তৃণমূলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই এবং এই উপহার শুধুই নেতাদের সম্মান জানানোর জন্য।
তবে দলীয় ব্যাখ্যা যাই হোক, বীরভূমের রাজনীতিতে দুই শীর্ষ নেতার গুরুত্ব ও প্রভাব বোঝাতে এখন রুপোর উপহারই যে নতুন ট্রেন্ড, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জেলার রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।