• সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের জন্য লাগবে অনুমতি, থাকছে ‘Do’s and Don’ts’, কড়া নির্দেশিকা সরকারি কর্মীদের
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • সরকারি কর্মচারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য নতুন নির্দেশিকা বিহার সরকারের। যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল খোলার আগে ঊর্ধ্বতন বা বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নেওয়া আবশ্যিক করা হয়েছে কর্মচারীদের জন্য।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মাবলীর অনুমোদন দিয়েছে বিহারের মন্ত্রিসভা। জানানো হয়েছে, অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল খোলার জন্য অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি কর্মচারীরা অনলাইনে ব্যক্তিগত বিষয় পোস্ট করার সময়ে তাঁদের সরকারি পদের নাম, সরকারি লোগো বা তাঁদের পদের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।

    এই নিয়মে সরকারি কর্মচারীরা কী ধরনের বিষয়বস্তু পোস্ট বা শেয়ার করতে পারবেন, তারও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অশ্লীল, আপত্তিকর, উস্কানিমূলক বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন কোনও বিষয় পোস্ট করা যাবে না। কোনও জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায় বা ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে করা কোনও পোস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কর্মচারীদের সরকারি সভা, সরকারি কর্মসূচি বা অফিসের ছবি বা ভিডিয়ো শেয়ার করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে, বিশেষ করে যদি সেই বিষয়বস্তু সংবেদনশীল বা গোপনীয় হয়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পোস্ট করা বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    এখানেই শেষ নয়। নির্দেশিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। সরকারি কর্মচারীদের প্রোফাইলে সরকারি নীতি, সিদ্ধান্ত বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য সমালোচনা এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। নিয়মে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা বা কোনও ব্যক্তির সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই নির্দেশিকা লঙ্ঘনের ফলে বিভাগীয় তদন্ত, শাস্তি এবং চাকরি সংক্রান্ত অ্য সমস্যা হতে পারে বলেও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

    তবে বিহার সরকার জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের কারণে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা রাজ্য প্রশাসনের কাছে আপত্তিকর। আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সরকারের উদ্দেশ্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা নয়, বরং ডিজিটাল জগতে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা।

  • Link to this news (এই সময়)