চার দিনেও কাটেনি ধোঁয়াশা, আনন্দপুরে এখনও নিখোঁজ ২৭, হাহাকার পরিজনদের
আজ তক | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
South 24 Parganas fire: এখনও নিখোঁজ ২৭ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া একাধিক গোডাউনে চলছে উদ্ধারকাজ। ক্রেনে করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে বের করে আনা হচ্ছে দেহাংশ। তবে সূত্রের খবর, এখনও নিখোঁজ ২৭ জন। ইতিমধ্যে ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে DNA পরীক্ষা। এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন শোকের আবহ, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে পুড়ে যাওয়া মানবদেহের অংশ ও কঙ্কালের টুকরো উদ্ধার হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মোট ২১ থেকে ২৫টি মানবদেহের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেগুলি ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের থেকেও DNA স্যাম্পেল নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই DNA ম্যাচিং করে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই পরিবারের তরফে থানায় একাধিক নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে জনপ্রিয় ফুড চেন 'Wow Momo'-রও গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থা মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আজীবন মাসিক বেতন দেওয়ার ঘোষণা করেছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়ছে সংস্থার উপরও। শুক্রবার সকালে Wow Momo র দুই কর্মী; মনোরঞ্জন শিট ও রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব ও উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে নাজিরাবাদ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জমায়েত এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
অগ্নিকাণ্ড ঘিরে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, 'ফায়ার সেফটি অডিট ছাড়াই কীভাবে Wow Momo-কে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হল? কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হল?' তাঁর দাবি, এই ঘটনার নৈতিক দায় মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা নারেন্দ্রপুর থানায় মিছিল করেন। সেখানে মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং নিকট আত্মীয়কে সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবিও তোলেন।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি বলেন, 'এটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও মর্মান্তিক ঘটনা। যাঁরা যাঁরা এর তদন্তে যুক্ত, বিশেষত আইনরক্ষাকারী সংস্থাগুলির দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আগেই সময় মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ছিল, যা তখন নেওয়া হয়নি।' রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।