• ভবানীপুরে SIR-কাঁটা! কাউন্সিলরদের সঙ্গে ফের বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, বাদ...
    ২৪ ঘন্টা | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুয়ারে ছাব্বিশ। 'দুরাচারী ও ব্যাভিচারীদের বিরুদ্ধে এবার লড়াই', ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কাউন্সিলরদের সঙ্গে ফের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।  ৭২ ও  ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড আরও ভালো কাজ করতে হবে। সূত্রের খবর তেমনই।

    ছাব্বিশের আগে বাংলায় SIR। কমিশনের তথ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে ভবানীপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল  ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। কিন্তু  SIR-র খসড়া তালিকায় নাম উঠেছে মাত্র ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০৯ জনের। অর্থাত্‍ খসড়া তালিকা থেকে বাদ প্রায় ৪৪ হাজার ৭৮৬ জন! যা মোট ভোটারের প্রায়  ২১.৭১ শতাংশ। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের একটি বড় অংশকেই ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করেছেন কমিশন।

    কলকাতা পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র।  ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২। তৃণমূল সূত্রে খবর,  ভবানীপুরে  ৭০,৭২ এবং ৭৭ নম্বর  থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। এরমধ্যে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি আবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই পরিস্থিতি সরাসরি কাউন্সিলরদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

    এবার কিন্তু প্রথম নয়। খসড়া তালিকা তখনও প্রকাশিত হয়নি। SIR পর্বে ভবানীপুরে বিধানসভা এলাকায় BLA-দের সঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন মমতা।   খসড়া তালিকায় যে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে, সেই আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো দলের কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে খবর।

    এদিকে SIR-এ লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি নিয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। কয়েকদিন আগে বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও মুখ্য়মন্ত্রীই বলেছিলেন, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি কোনওদিন ছিল না SIR-এ। একমাত্র বাংলায় হচ্ছে, আর কোথাও হচ্ছে না। খসড়া তালিকা বেরনোর পরেও'! সঙ্গে বার্তা, 'যারা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, পাননি, যাবেন। দরকার হলে অথারাইড পার্সনকে পাঠাতে পারেন'।

    কমিশন সূত্রে খবর, এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদে। বস্তুত, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহের মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সবকটি জেলাতেই  ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র সংখ্যা খুবই বেশি।

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ কোন জেলায় কত?

    মুর্শিদাবাদ: ১৬,৭২,১২৩


    দক্ষিণ ২৪ পরগনা:  ১৪,৮৭,০৪৮


    উত্তর ২৪ পরগনা: ১১,০০,৭৮৩


    মালদহ:  ৮,৬৭,০৫৪


    উত্তর দিনাজপুর: ট ৬,৯৮,১৪০


    হাওড়া:  ৬,৮৭,৯৮৪


    বীরভূম:  ৫,২০,৫৬৬


    পূর্ব মেদিনীপুর: ৫,২১,৪৪৩


    হুগলি: ৪,৭৯,৯০৫


    পশ্চিম মেদিনীপুর: ৪,২১,২৯২


    পূর্ব বর্ধমান : ৪,৬০,৪৫৫


    পশ্চিম বর্ধমান: ২,৭৭,৭৪৫


    কোচবিহার: ৩,৫৯,১৮৫


    আলিপুরদুয়ার: ১,৯৯,৪১৬


    জলপাইগুড়ি: ২,১৯,৬১৮


    দার্জিলিং: ১,৭৬,১৮৭


    কালিম্পং: ৪১,৮৯৩ 


    পুরুলিয়া:  ২,৮২,৪৮৭


    বাঁকুড়া: ২,৭৫,০৫২


     ঝাড়গ্রাম: ৭২,৩২২

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা সোজা বাংলায় তথ্যগত অসংগতি। কমিশন সূত্রে খবর, পাঁচ ক্ষেত্রে যদি ভোটারদের তথ্য অসংগতি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র আওতায় পড়ে যাবেন। যেমন, যেসব ব্যক্তির ছয়টির বেশি সন্তান রয়েছে,নথিতে বাবার নামের বানান বা তথ্যে পার্থক্য, বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর বা তার কম কিংবা ৫০ বছর বা তার বেশি, দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর বা কম।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)