নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রবিবার লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই নিয়ে টানা ন’বার বাজেট পেশ করতে চলেছেন তিনি। তবে এবার বাজেটে বাংলার বঞ্চনা অব্যাহত থাকলে মোটেই ছেড়ে কথা বলবে না তৃণমূল। দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। তাই বাজেটের দিন তৃণমূলের সব সাংসদকে লোকসভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তারপর রাজ্যে ফিরে গিয়ে এসআইআরের কাজে নজরদারির নির্দেশ।বাংলার অনেক টাকাই মোদি সরকার আটকে রেখেছে বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দাবি। তার মধ্যে ১০০ দিনের কাজ মহাত্মা গান্ধী নারেগায় যেমন পশ্চিমবঙ্গ এতদিনে ৫২ হাজার কোটি টাকা পাবে বলেই তৃণমূলের দাবি। একইভাবে আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাওনাও পড়ে রয়েছে। যদিও মোদি সরকার রাজ্যের সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। বিশেষত, মনরেগায় কেন্দ্রীয় সরকার ৩ হাজার ৩৮ কোটি টাকার বেশি দেবে না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প বন্ধ। আর সেইদিন পর্যন্ত কেন্দ্রের হিসাবে বকেয়ার অঙ্ক ওই তিন হাজার কোটি টাকাই।কিন্তু সেই টাকাও তো মিলছে না। বাজেটে তার কোনও দিশা কি দেখাবেন নির্মলা সীতারামন? বাংলার জন্য থাকবে কি উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ? তা নিয়েই তৃণমূল এবং বিজেপির অন্দরে চলছে চর্চা। তবে বাংলার বঞ্চনার সুরাহা না হলে আগামী রবিবার বাজেট পেশের পরেই সরব হবে তৃণমূল। আজ শনিবার বিকালেই দিল্লি আসছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।আগামী কাল লোকসভায় বাজেট পেশের সময় তিনি হাজির থাকবেন। এবং বাজেটের আলোচনায় তিনি হবেন দলের প্রধান বক্তা। এছাড়া বলবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ এবং ৯-১১ ফেব্রুয়ারি, মোট চারদিন বাজেটের ওপর ১৮ ঘন্টা আলোচনা হবে। অর্থমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ ১২ ফেব্রুয়ারি। পরেরদিনই অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ। বাজেটের মতোই লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের চর্চা হবে ২-৪ ফেব্রুয়ারি। সেখানে তৃণমূলের পক্ষে অংশ নেবেন শতাব্দী রায়, সায়নি ঘোষ এবং জুন মালিয়া।