ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত প্রশাসন, দাবি শংকরাচার্যের সহযোগীর
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
লখনউ: অবশেষে মাঘমেলা বিতর্কের অবসান ঘটতে চলেছে। শুক্রবার এমনই ইঙ্গিত দিলেন জ্যোতিষপীঠের শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর এক সহযোগী। তাঁর বক্তব্য, শংকরাচার্যের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত প্রয়াগরাজ প্রশাসন। মাঘমেলা উপলক্ষ্যে মৌনী অমাবস্যায় পুণ্যস্নানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। শংকরাচার্যকে হেনস্তার পাশাপাশি সাধু-সন্তদের পেটানোর অভিযোগ ওঠে যোগীরাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। যদিও এনিয়ে যোগী সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।ঘটনার পরই নিজের আখড়ার সামনে ধরনায় বসেছিলেন অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। তাঁর দাবি, পুলিশ ও মেলা প্রশাসনকে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, শংকরাচার্যের অনুগামীরা ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন। পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন জারি। এরই মধ্যে গত বুধবার প্রয়াগরাজের সংগমে স্নান না করেই বারাণসী চলে যান শংকরাচার্য। অভিমুক্তেশ্বরানন্দের মিডিয়া-ইনচার্জ যোগীরাজ সরকারের কথায়, প্রয়াগরাজ প্রশাসন ভাবতে পারেনি শংকরাচার্য স্নান না করেই আচমকা মাঘমেলা ছেড়ে চলে যাবেন। তাঁরা আশা করেছিলেন ১ ফেব্রুয়ারি, মাঘী পূর্ণিমায় স্নান পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন। ফলে তাঁকে সময়মতো বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি।জানা গিয়েছে, বুধবার শংকরাচার্য বারাণসীতে পৌঁছানোর পর লখনউ থেকে দুই শীর্ষ আধিকারিক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে মাঘমেলায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তখনই উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের কাছে দু’টি শর্ত রাখেন শংকরাচার্য। এক, ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। দুই, চারজন শংকরাচার্যের জন্যই প্রোটোকল মানতে হবে। এমনকি শংকরাচার্যকে পালকিতে চাপিয়ে সংগমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। -ফাইল চিত্র