সংবাদদাতা, শীতলকুচি: পাথর বোঝাই ডাম্পারের ভারে সেতু ভাঙল শীতলকুচিতে। এমন অবস্থায় ভোগান্তির আশঙ্কায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় শীতলকুচি ব্লকের লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবনাথপাড়ায়। ঘটনায় গাড়ির চালকের বরাত জোরে বেঁচে যান। সেতু ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়লেন কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে গ্রামীণ রাস্তায় পাথর বোঝাই ডাম্পার ঢুকল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পৌঁছন শীতলকুচির বিডিও অনিন্দিতা সিনহা ব্রহ্মা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মদন বর্মন, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি তপনকুমার গুহ সহ পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৫ বছর আগে দেবনাথপাড়ায় গিরিধারী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এদিন সকালে বিকট শব্দ হলে বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে এসে দেখতে পান সেতুটি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় লোহার খুঁটিগুলিতে মরচে ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এনিয়ে প্রশাসনকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।মূলত শীতলকুচি-সিতাই রাজ্য সড়কের নতুনবাজার থেকে বারোমাসিয়া হয়ে সিতাই যাওয়া পথে এই সেতুটি। সম্প্রতি রাস্তাটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। স্বভাবতই লালবাজার পঞ্চায়েত সহ সিতাই ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন। অপরদিকে, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে পরীক্ষার্থীরা। যদিও ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সেতুর পাশেই অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়াঁ, সুমন দেবনাথ জানান, সকালে পাথর ভর্তি একটি ডাম্পার সেতু পারাপারের সময় আচমকা সেতুটি ভেঙে পড়ে। প্রশাসন আগাম সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এবার আমাদের ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দায়ী করেছেন শীতলকুচির বিজেপি বিধায়ক বরেনচন্দ্র বর্মন। বলেন, প্রশাসন ও তৃণমূল নেতারা এতটাই উদাসীন যে সতর্কতামূলক বোর্ড পযর্ন্ত লাগানো হয়নি। আসলে তারা মানুষ মারার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যদিও তৃণমূলের শীতলকুচি ব্লক সভাপতি তপনকুমার গুহ জানান, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ব্লকজুড়ে চারটি সেতুর কাজ চলছে। গত পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ক তাঁর তহবিল থেকে শীতলকুচির মানুষের জন্য কী করেছেন তিনি আগে তার হিসেব দিন। দ্রুত সেতু নির্মাণের বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে জানানো হবে।শীতলকুচি বিডিও অনিন্দিতা সিনহা ব্রহ্মা জানান, এই সেতুতে ভারী ডাম্পার ওঠার কথা নয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেজন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হবে। শীতলকুচি থানার ওসি অ্যান্থনি হোড়ো জানান, ডাম্পারটি ক্রেন এনে সরিয়ে দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র