• দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ, বর্ধমানে আদালতে সা‌জা ঘোষণা
    বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বর্ধমান: পকসো মামলায় শুক্রবার জোড়া সাজা হল বর্ধমান আদালতে। একটি ক্ষেত্রে রায়না থানার মামলায় ৯ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে জড়িতের ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানার টাকা না দিলে তাকে আরও ছ’মাস জেলে কাটাতে হবে। সাজাপ্রাপ্ত যতদিন জেল খেটেছে, তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। এছাড়াও নির্যাতিতাতে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পসকো আদালতের বিচারক দেবশ্রী হালদার। ক্ষতিপূরণের টাকা নাবালিকার পুনর্বাসন ও উন্নতিতে ব্যবহার করা হবে। সাজাপ্রাপ্তের নাম শেখ জাহাঙ্গীর ওরফে মঙ্গল। তার বাড়ি রায়না থানা এলাকায়। রায়না থানারই অপর একটি মামলায় ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে পকসো আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতা কিশোরীকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাজাপ্রাপ্তের নাম নিশাকর মালিক। তার বাড়ি রায়না থানার ধারান গ্রামে। দু’টি মামলাতেই সরকারি আইনজীবী ছিলেন গৌতম মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় মামলায় তাঁর সঙ্গে সরকারি আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আজিজুল হক মণ্ডল। সাজা ঘোষণার পর তাঁরা বলেন, সাজা শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক বার্তাও। অপরাধ করলে যে শাস্তি পেতে হবে সাজা সেই বার্তা সমাজের কাছে পৌঁছে দেয়। যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর। ঘটনার দিন বেলা ১২টা নাগাদ বছর ন’য়ের ওই নাবালিকাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। সেই সময় ওই বাড়িতে কেউ ছিল না। নাবালিকাকে শরীরে তেল মাখিয়ে দেওয়ার জন্য বলে জাহাঙ্গীর। এরপর সে নাবালিকাকেও তেল মাখিয়ে স্নান করতে যেতে বলে। কিন্তু, নাবালিকা তার বাড়িতে স্নান করব বলে। এরপর জাহাঙ্গীর জোর করে নাবালিকাকে বাথরুমে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নাবালিকা বাড়ি ফিরে কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার কথা তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাবালিকার প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। ২৮ অক্টোবর নাবালিকার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ২৯ অক্টোবর জাহাঙ্গীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তদন্তকারী অফিসার নিবেদন শিকদার চার্জশিট পেশ করেন।দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। ঘটনার দিন দুপুরে নাবালিকার বাড়িতে কেউ ছিল না। সে একাই ছিল। সেই সময় নিশাকর ঘরে ঢুকে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে পালায়। বাড়ি ফিরে নাবালিকাকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। ঘটনার দিনই নাবালিকার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরে সে জামিনে ছাড়া পায়। তদন্তকারী অফিসার রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী সেই বছরেরই ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। এদিন আদালতে হাজির হলে নিশাকরকে দোষীসাব্যস্ত করে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে নেয় আদালত। পরে বিচারক সাজা ঘোষণা করেন।
  • Link to this news (বর্তমান)