নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’র প্রতিবাদে শুক্রবার ফের বর্ধমানে বিক্ষোভ দেখাল আদিবাসীরা। ধামসা-মাদল বাজিয়ে তারা কার্জনগেটের সামনে অবস্থান শুরু করে। এদিকে তারা অনশনও চালিয়ে যাচ্ছে। এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের আদিবাসী সংগঠনের নেতা দেবু টুডু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশন সিদ্ধান্ত বদল না করা পর্যন্ত অনশন চলবে। তাতে মৃত্যুবরণ করতেও অসুবিধা নেই। আদিবাসীরা কারও দয়ার পাত্র নয়। একজনের নামও বাদ দেওয়া যাবে না। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন অনশন মঞ্চে বসেছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মিঠু মাঝি, মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল সহ অন্যান্যরা। ২৫ জানুয়ারি থেকে তাঁরা অবস্থান শুরু করেছেন।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে প্রায় ১০ হাজার এসসি, এসটি ভোটার নো-ম্যাপিং হয়ে রয়েছেন। তাঁরা নথি দেখাতে পারেননি। তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এদিন আদিবাসীদের অন্য আরও একটি সংগঠন জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়। তাঁরাও জানিয়ে দেয়, কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। এক আধিকারিক বলেন, কমিশনের উচিত ছিল আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা। নথি না দেখে ইআরও বা এইআরওরা এলাকায় গিয়ে ভেরিফিকেশন করতে পারতেন। আদিবাসীরা অন্য জায়গা থেকে আসেননি। তাঁরা এখানকারই স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁদের সংস্কৃতিও আলাদা। সেসব দেখে তাঁদের খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। নির্বাচন কমিশন কড়াকড়ি করে তাঁদের বিপাকে ফেলেছেন। আদিবাসীরা বলেন, আমাদের সমাজের বেশিরভাগই নথি জমিয়ে রাখেননি। তাছাড়া তাঁদের সবার পদবী এক নয়। তাঁদের বহিরাগত বলা যাবে না। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ১ ফ্রেবুয়ারির মধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। কিন্তু নথি যাচাইয়ের কাজ সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ৬ লক্ষ নথি জমা পড়েছে। তারমধ্যে এখনও প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ নথি যাচাই বাকি রয়েছে। সময় না বাড়ালে, সময়ে নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। নো-ম্যাপিং হয়ে থাকা আদিবাসীদের নিয়েও কমিশন এখনও স্পষ্ট গাইডলাইন দেয়নি। নতুন নির্দেশ না এলে বহু আদিবাসীর নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে। তারমধ্যে তফসিলি ভোটাররাও রয়েছেন।-নিজস্ব চিত্র