স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকদের সংঘাত মাধ্যমিক নির্বিঘ্নে করতে অবজার্ভার নিয়োগ
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের সংঘাতে স্কুলের সুষ্ঠু পরিষেবা উধাও। এই অবস্থায় নন্দকুমার ব্লকের মল্লিকচক অমরস্মৃতি বিদ্যাপীঠে মাধ্যমিকের সেন্টার নিয়ে বেশ চাপে পড়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস। শুক্রবার জেলা শিক্ষা আধিকারিক শুভজিৎ কুণ্ডু ও মাধ্যমিক পরীক্ষা-’২৬ এর কনভেনার সত্যজিৎ কর ওই স্কুলে যান। তাঁরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কঠোর বার্তা দেন। ঝামেলা এড়াতে ঘোড়াঠাকুরিয়া অজয় হাইস্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রনারায়ণ বিন্দাইকে অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি তাঁকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। শুক্রবার থেকেই ইন্দ্রনারায়ণবাবু ওই স্কুলে নিজের কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন।যেকোনও পরীক্ষা কেন্দ্রে মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রধান শিক্ষকের অফিসঘর প্রশ্নপত্র রাখার জন্য স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নন্দকুমার ব্লকের মল্লিকচকের ওই স্কুলেও প্রধান শিক্ষকের অফিস ঘরকে স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধরে নিয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগাতে গিয়েছিল বরাত পাওয়া সংস্থা। কিন্তু, স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ বাগ সিসি ক্যামেরা লাগাতে বাধা দেন। যেকারণে ওই সংস্থা সিসি ক্যামেরা না লাগিয়ে ফিরে যায়। জানা গিয়েছে, সংঘাতের কারণেই প্রধান শিক্ষকের অফিসঘরের পরিবর্তে অন্য একটি রুমকে স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।চকশিমুলিয়া, ঠেকুয়াচক, কুলবেড়্যা, বহিচবেড়িয়া, দক্ষিণ নারকেলদা, উজিরান ও মিকিরপুরের মোট সাতটি স্কুলের ৭৬৪জন ছাত্রছাত্রী মল্লিকচক অমরস্মৃতি হাইস্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে মাধ্যমিক দেবে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এক বছর ধরেই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের বড় অংশের ঝামেলা চলছে। এই অবস্থায় প্রায়ই স্কুলে ঝামেলা, বিক্ষোভ হচ্ছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে সেই ঝামেলা আরও প্রকট হয়েছে। গত ২৭জানুয়ারি ওই স্কুলে সেন্টার কমিটির মিটিং ছিল। সেখানে অন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও এসেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক সেন্টার সেক্রেটারি থাকেন। আর, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক(মহিষাদল ইস্ট) বিকাশ পাত্র সেন্টারের অফিসার ইন-চার্জ। ওইদিন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বাদ রেখেই সেন্টার কমিটির মিটিং হয়। কারণ প্রধান শিক্ষকের ঘরের পরিবর্তে অন্য একটি ঘরে ওই মিটিং হওয়ায় তিনি মিটিং বয়কট করেন। যেকারণে পরীক্ষা আয়োজন করা নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়।আর মাত্র দু’দিন পর মাধ্যমিক পরীক্ষা। স্কুলে এভাবে ঝামেলা চললে সুষ্ঠু পরীক্ষা কীভাবে সম্ভব? প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেজন্য শুক্রবার জেলা শিক্ষা আধিকারিক শুভজিৎবাবু ওই স্কুলে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাধ্যমিক-২৬ এর ডিস্ট্রিক্ট কনভেনার সত্যজিৎবাবু। কীভাবে পরীক্ষা হবে তার রূপরেখা তৈরি হয়। সেইসঙ্গে অবজার্ভার হিসেবে ইন্দ্রনারায়ণবাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তারাপদ শীট বলেন, সহ শিক্ষকদের একটা অংশ স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তাঁদের সঙ্গে আছেন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ বাগ। পরীক্ষার জন্য সেন্টার কমিটির মিটিংয়ে তিনি অবৈধভাবে যোগ দিয়েছিলেন। আমার ঘরের সিসি ক্যামেরা ভেঙে আমার উপর হামলা করা হয়েছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষার স্ট্রংরুম করার জন্য সিসি ক্যামেরা লাগাতে এসেছিল সংস্থা। কিন্তু, তা লাগাতে বাধা দেন পরিচালন কমিটির সভাপতি। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।বিষ্ণুপদবাবু বলেন, আমি সিসি ক্যামেরা লাগাতে দিইনি। প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে যেখানে খুশি অভিযোগ করতে পারেন। আর, সেন্টার কমিটির মিটিংয়ে আমি ছিলাম না। প্রধান শিক্ষক অসত্য কথা বলছেন।