সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ানে হোটেল মালিককে গুলি করে খুনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন জঙ্গিপুরের সংসদ সদস্য তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি খলিলুর রহমান। এদিকে খুনিদের নাগাল পেতে ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক দল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। সামশেরগঞ্জ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার দিন রাতে ও পরদিন ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ, মোবাইলের কল লিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার কিনারা করতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে তারবাগানের বাসিন্দা ধুলিয়ানের নতুন ডাকবাংলায় হোটেল মালিক মহম্মদ রুহুল ইসলামকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। জনবহুল এলাকায় শ্যুটআউটের ঘটনায় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।সংসদ সদস্য খলিলুর সাহেব বলেন, এরকম জনবহুল এলাকায় একজন হোটেল মালিককে তাঁরই হোটেলের সামনে গুলি করে মারার ব্যাপারটি খুবই উদ্বেগজনক। পুলিশের আছে আবেদন দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুক।উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গের সংযোগকারী ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে ঢালু এলাকা দিয়ে নেমে প্রায় ৫০ মিটার দূরেই ওই হোটেল। হোটেলের পাশেই নুর মহম্মদ কলেজ, বেসরকারি নার্সিংহোম রয়েছে। এমন একটি এলাকায় কীভাবে দুষ্কৃতীরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপারেশন চালিয়ে পালিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার খুনের ঘটনার পর পরের দিন বৃহস্পতিবারও ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক দল। হোটেলে কোনও সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল না। তবে, ওই হোটেলের আশেপাশের এলাকার রাস্তার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিহতের দু’টি মোবাইল ফোনের কল লিস্টও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনার আগে তাঁর কাছে কোনও হুমকি ফোন এসেছিল কি না বা শেষ কয়েকদিনে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ব্যবসায়িক কোনও শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এই খুন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।এদিকে খুনের ৪৮ ঘণ্টা পরও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। ধুলিয়ান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, আমরা সবরকম ভাবে চেষ্টা করছি। সিসিটিভি ফুটেজ এবং কিছু সূত্র আমাদের হাতে এসেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত অপরাধীদের নাগাল পাওয়া যাবে।