বিজেপির মতো প্রতারণা বাংলার সঙ্গে কেউ করেনি : মন্ত্রী স্নেহাশিস
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কেন্দ্রে ক্ষমতায় থেকে বিজেপির মতো প্রতারণা বাংলার সঙ্গে আর কোনও রাজনৈতিক দল করেনি। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সভায় এসে এভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কীভাবে মানুষের সমস্যা বাড়ানো হচ্ছে, সেটা বৃহস্পতিবার তিনি উদাহরণ সহ তুলে ধরেন।মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে শেষবার কমিশন এসআইআর করেছিল। তখন এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এখন কমিশন মাত্র আড়াই মাসে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে। ঠিক ভোটের আগে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন জোর করে এসআইআর চাপিয়ে দিল। বাংলার ১কোটি ৬৮লক্ষ মানুষকে এখন শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের ডাহাপাড়ায় ছাউনির মোড়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে ওই প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন তৃণমূল নেত্রী শাওনি সিংহ রায়। সেখানে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর পাশাপাশি দলের ব্লক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। ওইদিন জনতা উন্নয়ন পার্টির ব্লক সভাপতি সাবিরুল ইসলাম মন্ত্রীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন।স্নেহাশিসবাবু বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে বিদায় দিতে হবে। বিজেপি বাংলাবিরোধী। বাংলার মানুষকে যন্ত্রণা দিচ্ছে, কষ্ট দিচ্ছে। গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে বিজেপি বেশ কিছু আসন জিতেছে। কিন্তু অবাক করার বিষয়, ওরা জেতার পর বাংলায় ১০০দিনের কাজ বন্ধ করে দিল! এই ১০০দিনের কাজে আমরা তিনবার দেশে প্রথম হয়েছি। এই কাজ করে গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের সংসার চলত। সাড়ে তিনবছর আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ বানিয়ে দিয়েছে। ওইদিনের সভায় মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এসআইআর নিয়ে মহিলারাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন। বিয়ের পর পদবি পালটে যাওয়ায় লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে তাঁরাই শুনানির ডাক বেশি পাচ্ছেন। তাই যেখানেই এসআইআরের প্রতিবাদে কর্মসূচি হচ্ছে, সেখানেই হাজার হাজার মহিলা যোগ দিচ্ছেন। শাওনিদেবী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। কেন্দ্রের তরফে বাংলাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহিলা, ছাত্রছাত্রী, কৃষক, পরিযায়ী শ্রমিক-সবার উপর বিজেপি সরকার নির্যাতন চালাচ্ছে। ডাহাপাড়া ও মুকুন্দবাগের বহু বুথে কমিশন প্রচুর মানুষকে নোটিস পাঠাচ্ছে। তাঁদের শুনানিতে যেতে হচ্ছে। তাই এদিনের প্রতিবাদ সভায় এই দুই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ এসেছে। বিজেপি কমিশনের সঙ্গে মিলে বাংলার ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। সেটা মানুষ বুঝে গিয়েছে।