• অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু
    বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: গত বছর টানা অতিবৃষ্টির জেরে নদীয়া জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। একটানা বৃষ্টির ফলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি দীর্ঘদিন জলমগ্ন অবস্থায় ছিল। সেই কারণে ধানগাছ পচে যাওয়া, গাছ শুয়ে পড়া ও জমি থেকে ফসল তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বহু ক্ষেত্রে ধানগাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন জেলার হাজার হাজার চাষি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের বাংলা শস্যবিমা প্রকল্প বড় ভূমিকা নিল। এরই মধ্যে নদীয়া জেলায় প্রায় ২১ হাজার চাষি শস্যবিমার টাকা পেতে শুরু করেছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খাতে মোট প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সিঙ্গুর থেকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পের আওতায় এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা  করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর জেলায় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, এতে চাষিদের দ্রুত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পের আওতায় এনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনা করেছেন। শস্যবিমার টাকা চাষিদের নতুন করে চাষের জন্য সাহস জোগাচ্ছে।কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বর্ষাকালে নদীয়া জেলায় মোট প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর ধানজমি অতিবৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ধান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, শান্তিপুর ও নবদ্বীপ ব্লকে ক্ষতির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেক এলাকায় ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা বিনিয়োগ করা টাকা পর্যন্ত তুলতে পারেননি।এই পরিস্থিতিতে শস্যবিমার টাকা চাষিদের কাছে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাষিদের একাংশ জানান, এই আর্থিক সহায়তার ফলে তাঁরা ঋণের চাপ কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারছেন। কেউ কেউ নতুন করে জমি প্রস্তুত করা, বীজ কেনা কিংবা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে এই টাকা ব্যবহার করছেন। কালীগঞ্জর চাষি মঞ্জুর দাস বলেন, বৃষ্টির কারণে খুব সমস্যা হয়েছিল। নদীর ধারে চাষ করায়, জল জমিতে আটকে ছিল অনেকদিন। শস্যবিমার টাকা  আমাদের অনেক উপকার লাগবে।‌ প্রশাসনের দাবি, বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়াই মূল লক্ষ্য। শস্যবিমার টাকা ও বীজ সহায়তার ফলে চাষিরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী দিনেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রাজ্য সরকার থাকবে বলেই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও গত বছর ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে কৃষিদপ্তরের তরফ থেকেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির উপযোগী তৈলবীজ বিতরণ করা হয়েছিল। প্রতি একর জমির জন্য গড়ে তিন কেজি করে বীজ দেওয়া হয়। সেই হিসেবে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ কেজি তৈলবীজ চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
  • Link to this news (বর্তমান)