সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: টেন্ডারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ঠিকাদারের সঙ্গে পঞ্চায়েত কর্মীর মারপিটের ঘটনায় শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বলরামপুরের রাঙাডি এলাকায়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। জখম ঠিকাদার পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলরামপুর থানার পুলিশ।স্থানীয় ও গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে সোমশুভ্র পালের সঙ্গে স্থানীয় ঠিকাদার সন্তোষ দত্তের বেশ কয়েকদিন ধরেই ঝামেলা চলছিল। তাদের মধ্যে ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। তারপরই শুক্রবার সকালে বলরামপুরের রাঙ্গাডি এলাকায় একটি ওষুধ দোকান থেকে টেনে বের করে ওই ঠিকাদারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বলরামপুরের পঞ্চায়েতের কর্মী সোমশুভ্র পাল সহ আরও বেশ কয়েকজন ঠিকাদার সন্তোষবাবুকে মারধর করে বলে অভিযোগ। সন্তোষবাবু বলেন, কয়েকদিন আগে সোমশুভ্র পাল নামে ওই পঞ্চায়েত কর্মীর সঙ্গে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বচসা হয়েছিল একথা ঠিক। বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলাম। সে সময় ওই পঞ্চায়েত কর্মী জানিয়ে দেয়, সব কাজ ভাগ হয়ে গিয়েছে। আর কাজ পাওয়া যাবে না। অনলাইন টেন্ডারের কাজ কীভাবে ভাগ করা হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রেগে যান ওই পঞ্চায়েত কর্মী। বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ করতে গেলে ২০ শতাংশ টাকাও দিতে হয় বলে অভিযোগ ওই ঠিকাদারের। সন্তোষবাবু আরও বলেন, সকাল ১১টার সময় প্রকাশ্যে ওই পঞ্চায়েত কর্মী এবং তার সহযোগীরা আমাকে মারধর করে। বলরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে তিনি চিকিৎসাধীন বলে জানান। অন্যদিকে অভিযোগ উড়িয়ে পঞ্চায়েত কর্মী সোমশুভ্র পাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্লকের একটি কাজকে কেন্দ্র করে সমস্যা। সন্তোষ দত্ত নামে ওই ঠিকাদার ব্লকের ওই কাজটি তার ভাইকে দিতে চাইছিল। ওই কাজে একাধিক জন ‘ড্রপিং’ করায় সন্তোষবাবু বারবার ফোন করে চাপ দিচ্ছিলেন কাজটি তাঁর ভাইকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য। তাতে না বলতেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারপরে যেদিন ওষুধ দোকানে ডেকে এনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। থানায় অভিযোগ করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে চাননি। বলরামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুমিত পান্ডা বলেন, একটা ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে টেন্ডার নিয়ে ঝামেলা বলে জানি না। বলরামপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মিঠু সহিস বলেন, ব্যাঙ্গালোরে রয়েছি। বিষয়টা জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।