রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব, চিকিৎসক ও দুই নার্সকে শোকজ
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অন ডিউটি সত্ত্বেও রাতে ঘুমাচ্ছিলেন ডাক্তার ও দুই নার্স। হাসপাতালের ভিতর প্রসবযন্ত্রণায় যুবতী আড়াই ঘণ্টা কাতরানোর পর শাশুড়ির সহযোগিতায় প্রসব করেন। কিন্তু, সদ্যোজাতকে বাঁচানো যায়নি। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে অমানবিক এই ঘটনায় শুক্রবার কর্তব্যরত চিকিৎসক ও দুই নার্সকে শোকজ করলেন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ অসিত দেওয়ান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছিল। শুক্রবার রিপোর্ট পাওয়ার পরই তিনজনকে শোকজ করা হয়। এদিন ওই তিনজনের ডিউটি অফ ছিল। শোকজের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ অসিতবাবু বলেন, এদিন ডাক্তার ও দুই নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। এদিকে, রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালের ওই ঘটনায় উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। শুক্রবার দুপুরে নন্দীগ্রামে সিএমওএইচ অফিসের সামনে এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় বামেরা। এদিন বিকালে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। বিরোধী দুই দলের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর বেশ চাপে পড়েছে।উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন ঘোলপুকুরিয়া গ্রামের মোহন মাইতির স্ত্রী ২৬ বছরের গার্গী মণ্ডল মাইতি। রাতে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। হাসপাতালে গার্গীদেবীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর শাশুড়ি সবিতা মাইতি। রাত ১২টা নাগাদ প্রসব যন্ত্রণা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। সবিতাদেবী ওয়ার্ডে অন ডিউটি থাকা নার্সদের কাছে গিয়ে দেখেন, তাঁরা কম্বল ঢাকা দিয়ে শুয়ে আছেন। তিনি বউমার ওই অবস্থার কথা জানালেও তাঁরা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। আর, অনডিউটি চিকিৎসক তিনি কোয়ার্টারে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ ওই প্রসূতিকে লেবার রুমে নিয়ে তাঁর শাশুড়ি। সেখানেই শাশুড়ির সহযোগিতায় প্রসব করেন। কিন্তু, সদ্যোজাতকে বাঁচানো যায়নি। প্রসবের পর চিকিৎসক এসে পৌঁছান। রাত ৩টা নাগাদ ফোন পেয়ে হাসপাতালে যান গার্গীদেবীর স্বামী মোহনবাবুও। সেই সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসক থাকলেও কোনও নার্স ছিলেন না। মোহনবাবুকে জানানো হয়, সদ্যোজাত মারা গিয়েছে।গার্গীদেবীর স্বামী বলেন, ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ও নার্স ঘুমাচ্ছিলেন। আমার স্ত্রী প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। আমার বয়স্ক মা অসহায় হয়ে বারবার নার্সের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁরা কোনও সহযোগিতা করেননি। এমনকী ডাক্তারকেও ডাকেননি। অথচ, অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন কর্তব্যরত ওই চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে আমার স্ত্রীর নিয়মিত চেকআপ করানো হয়। তিনি আমাদের অভয় দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁদের গাফিলতিতে আমি ও স্ত্রী সন্তানহারা হলাম। কর্তব্যে অবহেলা করার একটি সদ্যোজাত প্রাণ চলে গেল। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তাই কর্তব্যরত চিকিৎসক ও দুই নার্সের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।