সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শুনানি, অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ ভরতপুরবাসী
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কান্দি: কেউ অসুস্থ মেয়ের হাতে চিপস ধরিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ আবার কষ্টের দায়ভার চাপাচ্ছেন স্বামীর উপর। কেউ আবার দাঁড়িয়ে থেকে কোমরে মলম ঘষছেন। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানি কেন্দ্র ভরতপুর ১ ব্লক চত্বরে বৃহস্পতিবার এই ছবিই দেখা গেল সকাল থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।এদিন ওই ব্লকের কিষানমান্ডি ও বিডিও অফিস চত্বরের কয়েকটি ঘরে বিভিন্ন বুথের শুনানি চলছিল। অধিকাংশ শুনানি কেন্দ্রগুলি সন্ধ্যার আগে শেষ হলেও দু’টি বুথের শুনানি চলে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত। সেই দু’টি হল ভরতপুরের ৭৭ নম্বর বুথ ডাঙাপাড়া ও ৭৩ নম্বর বুথের শল্যাপাড়া, সিংয়েরগড়ে পাড়া ও শেখপাড়ার একাংশ। ভরতপুর ১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ৭৭ নম্বর বুথে শুনানি হয়েছে ২৫৪ জনের ও ৭৩ নম্বর বুথে শুনানি হয় ৪০৯ জনের। এই ৬৬৩ জনের শুনানিতে লেগে যায় পৌনে ১২ ঘণ্টা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন বলে দাবি।শেখপাড়ার সেলিমা বিবির সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর ছয় বছরের নাতনি। নাতনির মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। কষ্ট ভোলাতে তিনি নাতনির হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন চিপসের প্যাকেট। তিনি বলেন, কী করব বলুন? সেই বিকেল থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বিকেল হলেই নাতনি আর কারও কাছে যেতে চায় না। এত কষ্ট করেও আমার কাছে রয়েছে। আর তাঁর পাশেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খোন্দেকার মমতাজ স্বামীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া বাধিয়েছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার এই কষ্টের দায়ভার চাপাচ্ছেন স্বামীর উপর। বলছেন, প্রথম থেকে নামের বানান ঠিক করলে আজকে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।এরপর রাত তখন প্রায় ন’টা। মুর্শিদা বিবি, তাজমিরা বিবি হঠাৎ করে লাইন থেকে বেরিয়ে একটু আড়ালে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, আর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। তাই কোমরে মলম ঘষে এলাম। মুর্শিদা জানান, টানা চারঘণ্টা ধরে এভাবেই দাঁড়িয়ে। লাইন এগোতেই চাইছে না। ঘড়িতে যখন রাত সাড়ে ন’টা তখনও শতাধিক বাসিন্দা লাইনে দাঁড়িয়ে। দ্রুত কাজ সারা ও রিসিভড কপি না দেওয়ায় একবার গণ্ডগোলও বেধে যায়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।এদিন শেষ শুনানি হয় রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সুয়াব শেখ বললেন, যাক এবার বাঁচলাম। ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা দেরি হওয়ার কারণ জানবেন বলে জানিয়েছেন।