প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিয়ে মাধ্যমিক শুরু ২ ফেব্রুয়ারি, ভাবাচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়া
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের আবহেই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় মোট নথিভুক্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দু’হাজার বেশি। এবছর ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৩ জন ছাত্র এবং ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ ছাত্রী মাধ্যমিকে নাম নথিভুক্ত করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছে মোট ২,৬৮২টি স্কুল। এর মধ্যে প্রধান ভেন্যু ৯৪৫টি। আর ১৭৩৭টি হল সাব ভেন্যু। শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অ্যাড হক কমিটির সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য দিয়েছেন।পরীক্ষার আগে অবশ্য এসআইআরের কাজে বিএলও এবং এইআরও হিসেবে শিক্ষকদের নিযুক্ত থাকার বিষয়টি ভাবাচ্ছে পর্ষদকে। কারণ, ২০ জন পরীক্ষার্থী পিছু একজন ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শক প্রয়োজন। এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ধরলে পরিদর্শকের সংখ্যা প্রায় ৪৯ হাজার। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অফিসার-ইন-চার্জ, ভেন্যু সুপারভাইজার প্রভৃতি পদেও কয়েক হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। এঁদের মধ্যে কতজন ভোটের ডিউটিতে রয়েছেন, সেই তথ্য পর্ষদের কাছে নেই। যদিও, পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়া কোনো স্কুলে যে হিয়ারিং হচ্ছে না, এখনো পর্যন্ত তেমন খবরই রয়েছে পর্ষদের কাছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের পাওয়া নিশ্চিত করতে তিনবার জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের তিন তিনটি চিঠি দিয়েছে তারা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে অফিসার ইনচার্জ, সেন্টার সেক্রেটারিদের সকাল ৭টা থেকে শুরু করে একাধিক ধাপে প্রয়োজন। তাঁদের সই ছাড়া কাজ এগোবে না। শেষমুহূর্তে এই দায়িত্ব আনকোরা কোনো শিক্ষককে দেওয়ার সম্ভব নয়। তবে, কোনো উত্তর মেলেনি। তা সত্ত্বেও পর্ষদ কর্তা মুখে অন্তত আশার কথার শোনাচ্ছেন। আগস্টে হাইকোর্টের একটি নির্দেশ তাঁর হাতিয়ার। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরীক্ষার জন্য এই শিক্ষকদের ছাড়তেই হবে কমিশনকে। এদিকে কমিশন সূত্রে খবর, তারা ফাঁপরে পড়েছে। যথাসময়ে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে গেলে শিক্ষকদের দরকার। আবার তাঁদের আটকে রাখাও যাবে না। এই পরিস্থিতিতে পর্ষদকে কিছু জানাতে পারছে না তারা। তবে এই ইস্যুতে ঘন ঘন বৈঠকও করছেন কর্তারা।শুধু এসআইআরই নয়, কিছু স্কুলের গাফিলতিও পর্ষদের মাথাব্যথার কারণ। সরকারি নির্দেশে পর্ষদ ছাত্রছাত্রীদের নতুন করে এনরোলমেন্টের সুযোগ দেওয়ায় প্রায় দু’হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি, এমন স্কুলও রয়েছে, যারা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পড়ুয়ার রেজিস্ট্রেশন করিয়েও এনরোলমেন্ট করেনি। শেষমুহূর্তে নিজেরাই পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে এসে এনরোলমেন্ট করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। গাফিলতিতে অভিযুক্ত এমন প্রায় এক হাজার স্কুলকে তারা শোকজ করতে চলেছে। এর পাশাপাশি, মূলত এসআইআরের জন্য ২৭,৭৮৩টি ডুপ্লিকেট অ্যাডমিট কার্ড, সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য নথি গত কয়েকমাসে ইস্যু করতে হয়েছে পর্ষদকে। সব মিলিয়ে এবছর পরীক্ষার আগে বেশ চাপে পর্ষদ।