• ডিজে বক্স বাজিয়ে উল্লাস, নরেন্দ্রপুরে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে বিতর্ক
    বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় শুক্রবার আরও দুটি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২৭। তবে এখনও কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি। শোকে বিহ্বল পরিবারগুলি। আর এই ঘটনার  প্রতিবাদে এদিন বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে ঢালাই ব্রিজ থেকে কামালগাজি মোড় পর্যন্ত বিজেপির মিছিল ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে এত মৃত্যু ঘটল, সেখানে শোকের মিছিলের নামে নাচ ও উল্লাসে মেতে উঠল পদ্মপার্টির ‘কার্যকর্তারা’। রীতিমত ডিজে বক্স বাজিয়ে মিছিল করল বিজেপি। তারস্বরে বাজল ভোট প্রচারের নানা গানের প্যারোডি। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বাহু উল্লাস। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, নরেন্দ্রপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাজিরাবাদে যখন এখনও দেহাংশ খোঁজার কাজ চলছে, তখন কোন আনন্দে এমন উল্লাসে মাতলেন বিজেপির কর্মীরা! বিজেপির মিছিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। যখন চারদিকে প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা গ্রাস করেছে অসংখ্য পরিবারকে, তখন বিজেপি প্রতিবাদ মিছিলের নামে নির্লজ্জের মত উল্লাসে মেতেছে।এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পর এবার অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। এক্স হ্যান্ডেলে এমনটাই ঘোষণা করেছে পিএমও। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার মোমো প্রস্তুতকারী কোম্পানির দুই পদাধিকারী রাজা চক্রবর্তী ও মনোরঞ্জন শিটকে গ্রেপ্তার করল নরেন্দ্রপুর থানা। শুক্রবার দুজনকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক দুজনকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে ধৃতদের আইনজীবী তানিস হক বলেন, আগুন  পাশের ডেকরেটার্স কোম্পানির গোডাউন থেকে লেগেছে। আমাদের তিনজন কর্মী মারা গিয়েছেন।  আমরাই প্রথম অভিযোগ করি। আমাদের কারখানায় দেশলাই পর্যন্ত জ্বালানো হয় না। শুকনো জিনিস রাখা হয়। ৩৩টি অগ্নিনির্বাপক মেশিন রয়েছে আমাদের। মোমো প্রস্তুতকারী কোম্পানির ধৃত দুই কর্মীর আইনজীবী ঘটনার দিনে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বয়ানও আদালতে পেশ করেন। বিচারকের কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার আরজি জানানো হয়। অপরদিকে সরকারি আইনজীবী সামিউল হক বলেন, ওখানে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকল কী করে। দায় এড়ানো যায় কী? কে আগুন ধরিয়েছে, কী ছিল ভিতরে, তা তদন্তকারীরা দেখছেন। ফরেনসিক ও বিদ্যুতের রিপোর্ট পেলে আরও বোঝা যাবে। এগুলো হাতে আসেনি এখনও।শুক্রবারও ডেকরেটার্স সংস্থার গোডাউন ভাঙার কাজ চলল জোরকদমে। ঘটনাস্থলের বাইরে এদিনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাড়ের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা গেল। সেগুলি মানুষের কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষা না করে বোঝা যাবে না বলে দাবি পুলিশের।
  • Link to this news (বর্তমান)