নির্বাচনের মুখে উত্তর ২৪ পরগনা-নদীয়া জেলা ঘিরে ৫৩ কিমি নতুন রেললাইন, মতুয়া-ক্ষোভে প্রলেপ, দাবি বিরোধীদের
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার সার্বিক রেল মানচিত্রে নয়া জোয়ার আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন অসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকা চারটি রেল প্রকল্প ফের নয়া উদ্যমে চালুর উদ্যোগ নিলে ভারতীয় রেল। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি হল, বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি), বনগাঁ-চাঁদাবাজার (১১.৫ কিমি), চাঁদাবাজার-বাগদা (১৩.৮ কিমি) এবং রানাঘাট (আড়ংঘাটা)-দত্তফুলিয়া (৮.১৭ কিমি)। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, এই দুই জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের আধিক্য রয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমনে এই রেল প্রকল্পগুলি ‘ভেট’ বা ‘উপহার’ দিল কেন্দ্রীয় সরকার।বনগাঁ-চাঁদাবাজার নতুন লাইনের প্রস্তাবিত এই কাজে তিনটি বড়ো সেতু এবং একটি ছোটো সেতু নির্মাণ করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নয়া প্ল্যাটফর্ম, শেড, ফুটওভার ব্রিজ, টিকিট কাউন্টারসহ আধুনিক স্টেশন বিল্ডিং তৈরি হবে। বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা প্রস্তাবিত এই রেললাইনটি বনগাঁ থেকে কল্যাণীর অভিমুখে পোড়ামহেশতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করবে। তার মাধ্যমে এই সেকশনে একটি বড়ো সেতু এবং ৩৭টি ছোটো সেতু তৈরি হবে। বনগাঁ-রানাঘাট শাখা লাইনের ২১ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ের কাছ থেকে এই নতুন লাইনটির সূচনা হবে। চাঁদাবাজার-বাগদা প্রস্তাবিত এই ব্রডগেজ লাইনটি বনগাঁ-পেট্রাপোল সেকশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বনগাঁ-বাগদা স্টেট হাইওয়ের সমান্তরালে তৈরি হবে। চাঁদাবাজার ও বাগদা সংযোগকারী এই লাইনে দুটি বড়ো সেতু এবং ১৪টি ছোটো সেতু তৈরি হবে। সর্বশেষ রানাঘাট (আড়ংঘাটা)-দত্তফুলিয়া প্রস্তাবিত রেললাইনটি শিয়ালদহ থেকে ৭৩ কিমি দূরে অবস্থিত। এই জংশনটি গেদে ও লালগোলার সঙ্গে যুক্ত। এই সেকশনে ১৫টি ছোটো সেতু নির্মাণ করা হবে। নতুন এই লাইন চালু হলে ২৮০ বর্গ কিমি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের রেল পরিবহণের ঘাটতি মিটবে।