১৩টির বাইরে নথি জমা দিলেই নাম বাদ, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ কীভাবে! কমিশনের নির্দেশে আতান্তরে লক্ষ লক্ষ ভোটার
বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কমিশনের খামখেয়ালে আরও হয়রানির শিকার হতে হবে ভোটারদের! শুক্রবার রাজ্যের সব জেলাকে কমিশন যে নির্দেশ পাঠিয়েছে, তাতে এমনই ইঙ্গিত। জেলাগুলিকে কমিশন বলেছে, এখন থেকে কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথি (সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মাধ্যমিকের অ্যাডমিট গ্রহণযোগ্য) ছাড়া কোনো নথি ভোটারদের থেকে নেওয়া চলবে না। এখানেই শেষ নয়। ভোটারদের ভোগান্তি বাড়িয়ে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ইতিমধ্যে যেসব ভোটার শুনানিতে ওই ১৩টির বাইরে অন্য নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।আর এটাই উদ্বেগের কারণ। কারণ, কমিশন যেভাবে বাবা-মায়ের নামের বানানে ভুল ধরছে এবং ‘সন্দেহজনক’ হিসাবে দেগে দিচ্ছে, তা লক্ষ লক্ষ ভোটারকে আতান্তরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। কারণ, কমিশনের তৈরি করা ‘ছকে’ ইনিউমারেশন ফর্মে উল্লিখিত ব্যক্তিই যে সংশ্লিষ্ট ভোটারের আত্মীয়, তা প্রমাণে নির্ধারিত ১৩টি নথি যথেষ্ট নয়। ফলে কোনো ব্যক্তি ১৩টি নথির একটি জমা দিলেও প্রমাণ করা সম্ভব নয়, ইনিউমারেশন ফর্মে উল্লিখিত ব্যক্তিই তাঁর বাবা অথবা মা। যেমনটা হয়েছে নদীয়ার বাসিন্দা সঙ্গীতা ব্যানার্জির ক্ষেত্রে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম লেখা রয়েছে দিলীপ ব্যানার্জি। কিন্তু ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় সেটাই হয়ে গিয়েছে দিলীপ কুমার ব্যানার্জি। তাই তিনি সন্দেহজনক ভোটার হিসাবে শুনানির ডাক পেয়েছিলেন। এবং কমিশন নির্ধারিত মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট ও জন্ম শংসাপত্র জমা দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁর জমা দেওয়া ওই দুই নথিতেই বাবার নাম ‘দিলীপ কুমার ব্যানার্জি’। এখন কীভাবে এই নথিতে কীভাবে প্রমাণ হবে যে, ওই দুই ব্যক্তি একই লোক? সে কারণেই কমিশনের এহেন নির্দেশিকার পর ভোটারদের হয়রানির আশঙ্কা আরও বাড়তে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শুধু তাই নয়, কমিশন নির্ধারিত নথি নেই, অথচ ২০০২ সালের তালিকায় থাকা ব্যক্তিই যে সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাবা-মা, তা প্রমাণে অনেকে আদালতের হলফনামা, শিক্ষা সংসদ থেকে প্রাপ্ত অষ্টম শ্রেণি পাশের মতো নথিও জমা দিয়েছেন। এখন কমিশনের এই নথির ফতোয়ার জেরে তাঁদের নামও বাদ যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এর আগে সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে নথি সংগ্রহের ব্যাপারে এইআরওদের কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়নি কমিশন। এইআরওদের একাধিক সংগঠনের তরফে এব্যাপারে একধিক চিঠি পাঠানো হলেও কমিশন কোনো উত্তর দেয়নি বলে অভিযোগ। এসআইআর নির্দেশিকা জারি করার সময় যে নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা আনম্যাপড ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে শুনানির কাজ করেছেন এইআরওরা। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগে একটি রহস্যজনক এআই সফটওয়্যার কাজে লাগিয়ে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি চিহ্নিত করে কমিশন। সেক্ষেত্রেও কিন্তু ‘ওই ১৩টি নথিই প্রযোজ্য’—এমন লিখিত নির্দেশিকা তাদের দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ করছেন এইআরওরা। ফলে সাধারণ ভোটারকে কেন বার বার কমিশনের খামখেয়ালিপনার শিকার হতে হবে, এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। ভোটের প্রশ্নও বটে।