• দামের বিপুল ফারাক, চা-কফিতে চুমুক দিতে বইমেলার বাইরে ভিড়
    বর্তমান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘এক কাপ কফি খাওয়া প্লিজ।’ সহপাঠীর আবদার, না রেখে উপায় নেই। কিন্তু খাওয়াতে রাজি হয়েও মেলার যেদিকে কফির স্টল তার উল্টোদিকে হেঁটে যাচ্ছে বন্ধু। ‘স্টল তো এদিকে রে,’ যিনি আবদার করেছেন তিনি বললেন। যিনি খাওয়াবেন তিনি শুনে বলেন, ‘মেলার ভিতরে কফি খাবি,’ চোখ বড়ো হয়ে গেল তাঁর। তারপর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন বাইরে। বললেন, ‘ভিতরে ৪০ টাকা দাম। আর বাইরে ২০। এবার বুঝলি, কেন বাইরে এলাম!’ শুধু এই দুই বন্ধুর গল্প নয়, মেলার বাইরে আর ভিতরের দোকানগুলির মধ্যে দামের যে বিপুল ফারাক তা নিয়ে সবার মধ্যেই চলছে চর্চা। তাই চা-কফিতে চুমুক দিতে মেলার বাইরে ভিড় করছেন বহু মানুষ। প্রিয়জনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বাইরে। যতটা সাশ্রয় হয় আর কি।জানুয়ারির দুপুরে এখন ঘাম বেরচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর হাল্কা শীতের আমেজ। দিনের বেলা না হলেও সন্ধ্যায় কদর পাচ্ছে চা-কফি। বইমেলার ভিতরে স্টল আছে। কিন্তু ক্রেতাদের কথায়, বেশিরভাগ জায়গাতেই এক কাপ কফির দাম ৪০ টাকা। চায়ের দর ২০। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কফি খেতে গেলে অনেকের পকেটই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া যাঁরা বারবার চা-কফি খান তাঁরা সস্তা দাম চান। তাঁরা কিছুটা হেঁটে যেতে হলেও যাচ্ছেন বাইরে। ৯ নম্বর গেটের বাইরে করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ড। আশপাশে চা-কফির বহু দোকান। সেখানে চা মেলে ১০ টাকায়। ছোট কাপ আরও সস্তা, ৬ টাকা মাত্র। কফি ২০ টাকা। তবে শুধুই কী দামের জন্য বাইরে যাওয়া? সুখটান দিতেও বাইরে যান বহু মানুষ। কারণ ভিতরে সিগারেট টানায় নিষেধাজ্ঞা। ইমন ঘোষ নামে এক তরুণ বলেন, ‘প্রথমদিন বইমেলার ভিতর ১০ বন্ধুকে চা খাইয়েছিলাম। ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। আজ, ১০ জন মিলে এসেছি। বাইরে ৬ টাকা দাম। বিল হল ৬০ টাকা।’ তবে মেলার ভিতরে চা-কফির দোকানে ভিড় যে হচ্ছে না এমন নয়। সেখানেও লাইন। অনেকের দাবি, ভিতরে দাম বেশি হলেও কোয়ালিটি ভালো। তাছাড়া বইমেলা তো সবসময় হয় না। তাই দাম বেশি হলেও খেয়ে নিচ্ছি। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)