• কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে আমূল বদল ভলভো বাসে, ভাড়া কত?
    এই সময় | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: মৃদু একটা আওয়াজে বাসের দরজাটা খুলে যেতেই লাইন করে উঠে গেলেন যাত্রীরা। বাসের ভিতরে একটা সুখকর আবহাওয়া। কোনও কোনও বাসে আবার বিমান–সেবিকাদের মতো ‘বাস সেবিকা’ রয়েছেন। যাত্রীদের ওঁরা হাত জোড় করে আপ্যায়ন করছেন। আরামদায়ক সিটগুলো প্লেনের ইকনমি ক্লাসের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। উজ্জ্বল অথচ নরম আলোয় ভরে রয়েছে বাসটা। জানলার উপরে পর্দা ঝুলছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চলতে শুরু করার পরে তেমন ঝাঁকুনিও টের পাওয়া গেল না। ধর্মতলার বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে বাস রওনা হয়ে গেল শিলিগুড়ির উদ্দেশে।

    বছরের যে কোনও সময়েই উত্তরবঙ্গের ট্রেনে টিকিট পাওয়া আর লটারি পাওয়া প্রায় একই ব্যাপার। বাগডোগরা যাওয়ার প্লেনের টিকিটের যা দাম, সেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের হাতের বাইরে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এসি ভলভো বাস পরিষেবা।

    শ্যামলী পরিবহণ, গ্রিনলাইন, ইজ়িরাইড, রায়পুর ক্রুজ়ার, এক্সপ্রেস লাইন এবং আরও বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই রুটে নিয়মিত পরিষেবা দেয়। বেশ কয়েক বছর আগে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে বাস পরিষেবা বলতে ‘রকেট বাস’ ছাড়া অন্য কোনও বাসই ছিল না। সেখান থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসেছে যে প্রতি দিন এই রুটে গড়ে ৯০টি এসি বাস যাতায়াত করছে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনও বাসই খালি যায় না।

    এই প্রসঙ্গে বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠন অল বেঙ্গল বাস–মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘যে ধরনের বাস এখন এই জাতীয় লম্বা রুটে পরিষেবা দেওয়ার জন্য নামানো হচ্ছে, সেগুলোর দাম এক কোটি ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা এই বিপুল পরিমাণে অর্থ তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন লাভ নিয়ে তাঁদের কোনও সংশয় থাকে না।’

    বাসের মূল্য এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ এই বাসের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি ঝাঁকুনি কমানোর জন্য উন্নততর শক অ্যাবজ়র্ভার থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রতিটা বাসেই ‘ফুল এয়ার ডিস্ক ব্রেক’ এবং ইলেকট্রনিক ব্রেকিং সিস্টেম–এর (ইবিএস) পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভেহিকল স্টেবিলিটি কন্ট্রোল–এর (ইভিএসসি) ব্যবস্থাও থাকে।

    শ্যামলী পরিবহণের কর্ণধার অরুণ ঘোষ বলেন, ‘এই ধরনের বাসে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার ভাড়া দেড় হাজার টাকা। ট্রেনে এসি টু–টিয়ারের ভাড়ার প্রায় সমতুল্য। যদি যাত্রীদের থেকে বেশি ভাড়া নিয়ে তাঁদের পরিষেবায় সন্তুষ্ট না করা যায়, তা হলে তো ব্যবসায় টিকে থাকা যাবে না। এই কারণেই আমরা পরিষেবা নিয়ে এতটা খুঁতখুঁতে।’

    দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এই ধরনের এসি বাসের হাত ধরে আমূল বদলে যাওয়ার প্রভাব যে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির উপর পড়েছে সে কথা স্বীকার করছেন হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক–এর সম্রাট সান্যাল — ‘দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গের মধ্যে প্রতিদিন যত যাত্রী যাতায়াত করেন, তাঁরা সবাই যে ভ্রমণপিপাসু এমন নয়। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, চাকরি করতে আসেন এমন মানুষ, ব্যবসায়ী — এঁদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বাস পরিষেবা উন্নত হোয়ায় এঁদের সুবিধা হয়েছে।’

    পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজ়ম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অফ বেঙ্গল–এর (এটিএসপিবি) যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সমস্যা শুধু এক জায়গাতেই। উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বেসরকারি এই বাস পরিষেবার ক্ষেত্রে টিকিটমূল্যের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমাটি যদি বেঁধে দেওয়া হয়, তা হলে সব দিকে ভালো হয়। কারণ, পুজোর সময়ে বা ছুটির সময়ে এই ধরনের বাসের টিকিটের দাম দেড় হাজার থেকে বেড়ে পাঁচ হাজার পর্যন্ত হয়ে যায়।’

  • Link to this news (এই সময়)