মাঘ মাস শেষ হওয়ার আগেই ঠিক যেন ভোজবাজির মতো শহর থেকে উবে গেল ঠান্ডা। সপ্তাহখানেক আগের কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া প্রায় উধাও শহরে। সকাল আর সন্ধের সময়টুকু ছাড়া দিনের বাকি সময়ে ঠান্ডার আমেজটাও তেমন অনুভূত হচ্ছে না। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনে আরও বাড়তে চলেছে তাপমাত্রার পারদ। উত্তর ভারতে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকেই নেপথ্যের কারণ হিসেবে দায়ী করছে আবহাওয়া দপ্তর।
শুক্রবারের তুলনায় শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার প্রায় ১ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে শহরের তাপমাত্রা নেমেছে ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে, এই তাপমাত্রার এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা।
জম্মু-কাশ্মীর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার হানা অব্যাহত। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দু’টি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্জা ঢুকতে পারে। এর প্রভাবেই কমছে উত্তুরে হাওয়ার আনাগোনা, বাড়ছে তাপমাত্রা। দক্ষিণবঙ্গে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে । কলকাতায় সকালের দিকে হালকা কুয়াশা হতে পারে। উপকূল অঞ্চলের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১১–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
অন্য দিকে, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। আগামী কয়েকদিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার-সহ একাধিক জেলাগুলিতে ১০–১৪ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে তাপমাত্রা। এ ছাড়া সমতল অঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপামত্রা ১৪–১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।