'বেলডাঙার অশান্তিতে বড় প্ল্যানিং ছিল...' তদন্তের রাশ NIA-এর কাছে যেতেই কী ইঙ্গিত সুকান্তর?
আজ তক | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে আশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। হয় অবরোধ-ভাঙচুর। আর সেই ঘটনারই তদন্তভার এবার রাজ্য পুলিশের হাত থেকে গেল কেন্দ্রীয় সংস্থা NIA-এর কাছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশের ফলেই এই তদন্তের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিল NIA বলেই খবর। আর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার।
তিনি বলেন, '...যেভাবে বেলডাঙার ঘটনা ঘটেছে, তাতে বোঝা যায় যে এই তাণ্ডবের পিছনে নিশ্চিতভাবে কোনও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। NIA-এর সঠিক তদন্ত করতে পারবে। কারণ, তাদের ক্ষমতা রাজ্য পুলিশের থেকে অনেকটাই বেশি।'
পাশাপাশি তিনি নিজের বক্তব্যে আদালতের সিদ্ধান্তরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, 'আদালতের তরফে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করি।'
কী হয়েছিল?
১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দীন শেখের মৃত্যুর খবরে কার্যত তাণ্ডব চলে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। অবরোধ করা হয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। আটকানো হয় রেলপথ। চলে পাথরবৃষ্টি। এমনকী সাংবাদিকদের মারধোর করার অভিযোগও সামনে আসে।
এই নৈরাজ্যেরই তদন্তে নামে পুলিশ। তবে এই সবের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে ঘটনাটিকে নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০ জানুয়ারি এই মামলায় আদালত রায় দেয়। আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে জাতীয় তদন্তকারী কোনও সংস্থার হাতে তদন্ত ভার তুলে দিতে পারে। আর সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক NIA তদন্তের নির্দেশ দিল বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই ঘটনাতেই উচ্ছ্বসিত সুকান্ত।
তদন্ত ভার তুলে নেবে NIA
এতদিন বেলডাঙার তদন্ত করছিল পুলিশ। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ জনকে গ্রেফতারও করেছে। তবে আপাতত সেই তদন্তের দায়িত্ব গেল NIA এর কাছে। এখন তাদের পক্ষ থেকে গঠন করা হবে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দল স্থানীয় থানায় যাবে। সেখান থেকে কেস ডায়েরি গ্রহণ করবে। তারপরই শুরু হবে তদন্ত বলে জানা যাচ্ছে।
আর কেন্দ্রীয় সরকার এবং কোর্টের এই সিদ্ধান্তেরই প্রশংসায় করেছেন সুকান্ত। পাশাপাশি তিনি এই ঘটনা এবং আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, 'আনন্দপুরের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সময় হয়নি আনন্দপুরে যাওয়ার। তিনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইপ্যাকের অফিসে যেতে পারেন। তৃণমূলের কাছে মানুষের থেকেও বড় রাজনীতি।'